করোনার মতো কঠিন রোগ থেকে বাঁচতে বিশ্বনবির আমল-দোয়া


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনা জাতির মধ্যে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের মধ্যে এমন এমন নতুন রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে; যা ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও আক্রমণ এখনো থামেনি। নতুন নতুন লক্ষণ ও ধরণ নিয়ে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। কোথাও একই লক্ষণ আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ভিন্ন লক্ষণ নিয়ে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। l

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নতুন সৃষ্ট সংক্রমণ রোগ। এর আগে বহু সংক্রমণ ভাইরাস সৃষ্টি হয়েছে। যেমনটি বলা হয়েছে হাদিসে। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে সচেতনার বিকল্প নেই। এ জন্য মাস্ক ব্যবহার ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

করোনা থেকে বাঁচতে দোয়া
করোনার মতো কঠিন সংক্রামক নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি ও মহামারী দেখা দিলে তা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার কথা বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নতুন নতুন কঠিন রোগ-ব্যাধির বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি দোয়া করতে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
– اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

– اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

> সকাল-সন্ধ্যার বিশেষ দোয়া
এ ছাড়াও অনাকাঙিক্ষত ভাইরাস রোগ ও ব্যধিসহ যে কোনো বিপদাপদ থেকে বেঁচে থাকতে সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত আমল করা জরুরি। আর তাতেও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকা সহজ হবে। হাদিসে এসেছে-
হজরত উসমান ইবনে আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোনো বান্দা এ দোয়াটি ৩ বার পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট/ক্ষতি করতে পারবে না-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস্সামায়ি ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।’ (তিরমিজি)
অর্থ : ‘ওই আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।’

> আমল
নতুন সৃষ্ট জটিল ও কঠিন রোগ করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে হাদিসের ওপর আমল খুবই জরুরি। যে যেখানে অবস্থান করছে, সে ব্যক্তির সেখানে থাকা এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে মাস্ক ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা খুবই জরুরি। হাদিসের নির্দেশনাও এমন-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তোমরা মহামারির (নতুন নতুন রোগ-ব্যাধির) কোনো সংবাদ শোন, তো সেখানে (আক্রান্ত অঞ্চলে) তোমরা প্রবেশ কা থেকে বিরত থাক। যদি কোনো শহরে বা নগরে কেউ সে মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তো সেখান থেকে তোমরা বের হয়ে (অন্য কোনো অঞ্চলেও) যেয়ো না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

> ৪ তাসবিহ’র আমল
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একদিন এক আরব বেদুইন এসে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে (যে কোনো) একটি ভালো আমল শিখিয়ে দিন-
তখন এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বেদুইনের হাত ধরলেন। আর তাকে (সামনে বসিয়ে) এ শব্দগুলো শেখালেন এবং বললেন এ শব্দগুলো (৪ তাসবিহ) বেশি বেশি পড়বে-
> سُبْحَانَ الله : সুবহানাল্লাহ; আল্লাহ পবিত্র
> اَلْحَمْدُ للهِ : আলহামদুলিল্লাহ; সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য
> لَا اِلَهَ اِلَّا الله : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই
> اَللهُ اَكْبَر : আল্লাহু আকবার; আল্লাহ তাআলাই মহান (সবচেয়ে বড়)।

লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত এ কথাগুলো শুনে কোনো কিছু না বলে ওঠে চলে গেলেন। (অর্থাৎ এ আমলটির ব্যাপারে তার আগ্রহ বাড়েনি)

তারপরের ঘটনা…
কিছুদূর যাওয়ার পর লোকটি কি যেন চিন্তা করে আবারও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে আসে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তাঁকে দেখে) মুচকি হাসলেন।
লোকটি ফিরে এসে প্রিয়নবির সামনে বসে বললেন-
(হে আল্লাহর রাসুল!) ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’- আপনি যে এ তাসবিহগুলো আমাকে শেখালেন, এ বাক্যগুলো তো আল্লাহর জন্য। এতে আমার জন্য কী রয়েছে? এগুলো পড়লে আমি কী পাবো?

এবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন-
> তুমি যখন বলবে- ‘সুবহানাল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
> তুমি যখন বলবে- ‘আলহামদুলিল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
> তুমি যখন বলবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
> তুমি যখন বলবে- ‘আল্লাহু আকবার। আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।

অতঃপর জিকিরকারী ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিজের (কাঙিক্ষত) চাহিদাগুলো (ধারাবাহিকভাবে যা চাইবে) তুলে ধরবে (যেমন)-
> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ) আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ) ‘আল্লাহুম্মার জুক্বনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিজিক দান করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাকে ইতিমধ্যে রিজিক দান করেছি।’

> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْحَمْنِىْ) আল্লাহুম্মার হামনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অনুগ্রহ করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, ইতিমধ্যে তোমার প্রতি রহম করেছি।

কোনো বান্দা যদি এ ৪ তাসিবহ’র আমল করে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করে মহামরি করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে প্রার্থনা করে, তবে হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে মহামারি করোনা ভাইরাস থেকেও মুক্ত রাখবেন। (ইনশাআল্লাহ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি উল্লেখিত হাদিসের আমল, তাসবিহ ও দোয়াগুলোর মাধ্যমে মহামারি করোনা থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি দোয়া করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি করোনা থেকে মুক্ত থাকতে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সচেতন হয়ে সবাইকে যথাযথ আমল ও দোয়ার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া যুবকদের জন্য ৪টি নসীহত


নারীরাও ২ ভাবে পুরুষদের মতো জামাতে সালাতের সমান সওয়াব পেতে পারেন, জেনে নিন সে উপায়


সরাসরি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান পর্ব ৮০


রমাদান প্রস্তুতি ও তার জন্য কর্মপরিকল্পনা


আল্ট্রা মডার্ণ হিজাবীদের জন্য কয়েকটি নসিহত


স্ত্রীর সাথে কখন মিথ্যা বলা যাবে


হিফজখানার বেদম প্রহার বন্ধে একটি সুপারিশ


মোহরানা না দিয়ে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না


গর্ভবতী মায়ের করণীয় বর্জনীয় ও প্রচলিত কুসংস্কার গর্ভাবস্থায় কি করতে পারবেন কি পারবেন না


কবীরা গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং জঘন্য ৩টি কবীরা গুনাহ


যেসব কাজে জীবনের সব কিছুতে বরকত নেমে আসে। বরকতের ১০টি চাবি


আয়ানার সামনে দাড়িয়ে নামাজ পড়লে নামাজ হবে কি না


১৭ শ্রেণীর লোক মুসলমান হয়েও জান্নাতে যেতে পারবে না!


যে বয়ান শোনার পর ফজরে অলসতা আসবেনা


শবে বরাত বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান দিলেন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ)


সহবাসের পর মেয়েদের জন্য গোসল না করে গৃহস্থলী কাজ ও শিশুকে দুধ পান করানোর বিধান শায়খ আহমাদুল্লাহ


১৩ শ্রেণীর হতভাগা যাদের আমল ইবাদত কবুল হয় না!


ওজুতে যেভুলগুলো হয়


কথার শুরুতে রাসূল (সা) যা বলা শিখিয়েছেন


আড়ংয়ের দাড়ি বিদ্বেষ নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্ললাহ


পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের ৯৯% মানুষ যে ভুলগুলো করে থাকে


৪০ দিনের বেশি নাভির নিচের লোম পরিস্কার না করলে নামাজ হবে না এই কথা কতটুকো সত্য


দরূদ শরীফের ফযীলত বিষয়ক দুটি বানোয়াট কিসসা


ঢাকার একটি লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত ‘বার চাঁদের ফযীলত’ নামক পুস্তকে দরূদের ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে দুটি কিসসার অবতারণা করা হয়েছে-

১. দরূদ শ্রবণকারী মাছ…

“একবার এক সওদাগরের একখানি বাণিজ্য-তরী নীল নদী দিয়া যাইতেছিল। সেই জাহাজে এরূপ একজন লোক ছিল, যে প্রত্যহ হযরত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে দরূদ পাঠ করিত। একদা সে দরূদ পাঠ করিতেছিল; এমন সময় দেখিতে পাইল, জাহাজের গা ঘেঁষিয়া নদীর একটি মাছ কান পাতিয়া তাহার দরূদ পাঠ শুনিতেছে। যখন তাহার দরূদ পাঠ শেষ হইল তখনই মাছটি পানিতে ডুবিয়া গেল।

ঘটনাক্রমে সেই মাছটি এক জেলের জালে ধরা পড়িল। অতঃপর জেলে মাছটিকে বিক্রয় করার জন্য বাজারে উপস্থিত করিল। সেদিন হযরত ওমর রা. বা মতান্তরে আবু বকর সিদ্দীক রা. এই উদ্দেশ্যে বাজারে আসিয়াছিলেন যে, একটি বড় মাছ পাওয়া গেলে উহা কিনিয়া আনিবেন এবং হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করিয়া উহা খাওয়াইবেন। বাজারে এই মাছটিকে দেখিয়া তিনি খুব খুশি হইলেন এবং ইহা ক্রয় করিয়া নিয়া স্ত্রীকে বলিলেন, এই মাছটিকে খুব ভালোভাবে রান্না করিও; আজ ইনশাআল্লাহ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করিব।

বিবি সাহেবা মাছটির আঁশ ছাড়াইয়া ভালোভাবে ধুইয়া পরিষ্কার করিয়া নানারকম মসলা মাখিয়া উহাকে রান্না করিবার জন্য চুলায় তুলিয়া হাঁড়ির নিচে আগুন দিতে লাগিলেন। কিন্তু আগুন জ্বলিল না। বহু চেষ্টা করিয়া কোনমতে আগুন ধরাইলেই আবার উহা নিভিয়া যাইত। এভাবে বহুক্ষণ যাবৎ চেষ্টা করিয়াও আগুনকে উত্তপ্ত করিতে না পারিয়া স্বামীকে ব্যাপারটি অবগত করিলেন। তিনিও খুব চেষ্টা করিলেন। কিন্তু কোনোই ফল হইল না। অবশেষে মজবুর হইয়া তাঁহারা হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই ঘটনা বিবৃত করিলেন। তিনি মাছের অবস্থা অবগত হইয়া বলিলেন, দুনিয়ার আগুন তো দূরের কথা দোযখের আগুনও ইহাকে জ্বালাইতে পারিবে না। কারণ, কোনো ব্যক্তি যখন দরূদ পাঠ করিতেছিল তখন এই মাছটি মনোযোগ সহকারে উহা শুনিতেছিল। উহার বরকতেই তোমরা ইহাকে রান্না করার জন্য আগুন জ্বালাইতে পার নাই।”

এটি একটি বানোয়াট কিসসা। কিসসাটির মাঝেই তা বানোয়াট হওয়ার বিভিন্ন আলামত বিদ্যমান। মাছটি দরূদ শুনতে পেল নীলনদে আর ওমরা রা. বা আবু বকর রা. মদীনার বাজারে তা কিনতে গেলেন! কিসসাটি কোন্ যামানার ঘটনা হিসাবে দাবি করা হচ্ছে তাও মাথায় রাখুন! আবার সাহাবী মাছ কেনার উদ্দেশ্যে বাজারে যাচ্ছেন; মদীনার বাজার কি এমন ছিল যে, সচারচর সেখানে মাছ পাওয়া যেত? এছাড়াও আরো অসামঞ্জস্য কথাবার্তা আছে ঘটনাটিতে।

মূলত এটি শিয়াদের বানানো একটি কিসসা। শিয়াদের মাধ্যমে পাক-ভারত উপমহাদেশে এজাতীয় অনেক বানোয়াট কথা প্রসিদ্ধ হয়েছে।

শিয়াদের বেশ কিছু সাইটে এই কিসসাটিই একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে। সেখানে ওমরা রা. বা আবু বকর রা.-এর কথা নেই। তেমনি নবীজীকে দাওয়াত করার বিষয়টিও নেই। সেখানে আছে, কোনো এক ব্যক্তি একটি মাছ কেনে; রান্না করার জন্য প্রস্তুতও করে; কিন্তু দেখে যে, আগুনে তার কিছুই হচ্ছে না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানালে তিনি মাছটিকে জিজ্ঞাসা করেন-কেন এমনটি হচ্ছে। তখন মাছটি বলে, এক ব্যক্তিকে ‘আপনার ও আপনার আহলে বাইতের উপর’ দরূদ পড়তে শুনে সে খুব প্রভাবিত ও আনন্দিত হয় এবং সেও ‘নবীজী ও তাঁর আহলে বাইতের উপর’ বেশি বেশি দরূদ পড়তে থাকে এবং একটি গায়েবী আওয়ায পায়- ‘হে মাছ! আল্লাহ তোমার দেহের জন্য আগুনকে হারাম করে দিয়েছেন। আগুন তোমাকে পোড়াতে পারবে না।’ একারণেই এমনটি ঘটেছে।

যাইহোক, এটি একটি জাল ও বানোয়াট কিসসা; যা শিয়াদের কর্তৃক জালকৃত।

২. দরূদ পড়ে ফুঁ দেওয়াতে ভিক্ষুকের হাতের মুঠোয় মুক্তদানা!

আলোচ্য পুস্তিকায়ই আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে-

“একদা আবু জেহেল এবং আরো কয়েকজন কুরায়েশ কাবা শরীফের অদূরে এক স্থানে বসিয়া আলোচনা করিতেছিল। এমন সময় একটি ভিক্ষুক আসিয়া তাহাদের নিকট কিছু ভিক্ষা চাহিল। তদুত্তরে তাহারা উপহাসের সুরে ভিক্ষুকটিকে বলিল, কাবাঘরে আলী আছে, তুমি তাহার নিকট চলিয়া যাও। সে তোমাকে প্রচুর অর্থ দান করিবে। কেননা সে একজন দাতা লোক। তাহাদের ধারণা ছিল, হযরত আলী রা.-এর নিজের দুই বেলার আহার জোটানোই মুশকিল, এই অবস্থায় তিনি ভিক্ষুককে কিছু দান করিতে পারিবেন না; ফলে, তিনি তাহার নিকট লজ্জিত হইবেন। ভিক্ষুকটি তাহাদের কথানুসারে কাবা প্রাঙ্গণে হযরত আলীর নিকট উপস্থিত হইয়া কিছু ভিক্ষা চাহিল। তাহাকে দেওয়ার মত কোন কিছুই তখন তাঁহার নিকট ছিল না। তাই তিনি তাহাকে বলিলেন, দুই হাত একত্রিত করিয়া আমার দিকে বাড়াও। সে হস্তদ্বয় বাড়াইয়া দিলে তিনি কোনও দোয়া পড়িয়া তাহার হাতের তালুতে ফুঁ দিলেন। বলিলেন, মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায়ই তুমি তাহাদের নিকট চলিয়া যাও, যাহারা তোমাকে আমার কাছে পাঠাইয়াছেন এবং সেখানে পৌঁছিয়া হাতের মুষ্টি খুলিবে। তাঁহার নির্দেশ মত সে কাফেরদের নিকট যাইয়া স্বীয় মুষ্টি খুলিয়া দেখিতে পাইল যে, হাতের মধ্যে এক হাজার দীনার মূল্যের একটি মুক্তা রহিয়াছে। মুক্তাটি দেখিয়া কাফেরগণ আশ্চর্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, তুমি ইহা পাইলে কাথায়? সে বলিল, তিনি আমার হাতে একটি ফুঁ দিয়াছিলেন, উহার বরকতে এই মুক্তা সৃষ্টি হইয়াছে। একথা শ্রবণ করায় তাহাদের বিস্ময়ের মাত্রা আরো বাড়িয়া গেল।

তাহারা হযরত আলী রা.-এর নিকট যাইয়া এ সম্পর্কে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, তিনি বলিলেন, ভিক্ষুকটি আসিয়া যখন আমার নিকট কিছু ভিক্ষা চাহিল, তখন তাহাকে খালি হাতে ফিরাইয়া দিতে আমার লজ্জা বোধ হইল। তাই আমি দরূদ শরীফ পাঠ করিয়া তাহার হাতে ফুঁ দিয়াছি। উহারই বরকতে আল্লাহ তাআলা তাহার হাতের মধ্যে এই মুক্তাটি দান করিয়াছেন। ইহা শুনিয়া তাহারা খুবই আশ্চর্যান্বিত হইল, এমনকি তাহাদের মধ্য হইতে তিন ব্যক্তি তখনই ইসলাম গ্রহণ করিল।”

পূর্বোক্ত কিসসাটির মত এটিও একটি বানোয়াট কিসসা। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে তা পাওয়া যায় না।

দরূদের মাধ্যমে এর চেয়েও অলৌকিক বিষয় ঘটতে পারে। কারণ, দরূদের মাধ্যমে আল্লাহ্র রহমত বান্দার শামিলে হাল হয়। কিন্তু দরূদের ফযীলত প্রকাশ করতে গিয়ে এসব বানোয়াট কিসসা-কাহিনী বলার দ্বারা কী ফায়েদা! কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসে দরূদ শরীফের বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْصَلّىعَلَيّوَاحِدَةًصَلّىاللهعَلَيْهِعَشْرًا.

যে আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪০৮

এর চেয়ে বড় ফযীলত আর কী হতে পারে যে, দরূদ পাঠের মাধ্যমে আমি আল্লাহ্র রহমতের বৃষ্টিতে স্নাত হব! দরূদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্র রহমত আমার সঙ্গী হয়ে যাবে। এই একটি ফযীলত লাভ করতে পারলে কি বান্দার দুনিয়া-আখেরাতে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে!

তারপরও নির্ভরযোগ্য সূত্রে দরূদ পাঠের আরো কত ফযীলত বর্ণিত হয়েছে! দরূদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْصَلّىعَلَيّمِنْأُمّتِيصَلَاةًمُخْلِصًامِنْقَلْبِهِ،صَلّىاللهعَلَيْهِبِهَاعَشْرَصَلَوَاتٍ،وَرَفَعَهُبِهَاعَشْرَدَرَجَاتٍ،وَكَتَبَلَهُبِهَاعَشْرَحَسَنَاتٍ،وَمَحَاعَنْهُعَشْرَسَيِّئَاتٍ.

যে ব্যক্তি আমার প্রতি অন্তর থেকে একবার দরূদ পেশ করবে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। তার মর্তবা দশ স্তর পর্যন্ত উন্নীত করবেন। তাকে দশটি নেকী দান করবেন এবং তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেবেন। -সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ৯৮৯২, ৯৮৯৩; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১২৯৭; আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ, নাসায়ী, হাদীস ৩৬২

তেমনি বেশি বেশি দরূদ পাঠের মাধ্যমে নবীজীর নৈকট্য লাভ হয়। আখেরাতে তাঁর সঙ্গ লাভ হয়, তাঁর কাছের মানুষ হওয়া যায়। আখেরাতে তাঁর সঙ্গ লাভ-এর চেয়ে কি আর বড় ফযীলত হতে পারে! আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أَوْلَىالنّاسِبِييَوْمَالقِيَامَةِأَكْثَرُهُمْعَلَيّصَلاَةً.

কিয়ামতের দিন আমার নৈকট্য লাভ করবে ঐ ব্যক্তি, যে আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৮৪

এছাড়াও নির্ভরযোগ্য সূত্রে দরূদের আরো অনেক বড় বড় ফযীলত বর্ণিত হয়েছে; তার পরও কেন যেন কিছু মানুষের এসকল অমূলক কিসসা-কাহিনী ও ভিত্তিহীন ফযীলতের প্রতি আগ্রহ! আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

একটি ঈমান বিধ্বংসী কথা


কোনো কোনো মুসলিমকেও কখনো কখনো সগর্বে বলতে শোনা যায়- ‘আমি দাড়ি-টুপিওয়ালা মানুষ দেখতে পারি না’! একে তো এটি একটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বাক্য, সাথেসাথে তা ব্যক্তির কূটিল মানসিকতারও প্রকাশ। দ্বিতীয়ত সে এর প্রকাশ করছে-সকলের সামনে, উঁচু গলায়। আল্লাহ্র পানাহ-তার এ বাক্য থেকে, তার এ মানসিকতা থেকে!

এমন কথা বলার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এক হল, কোনো দাড়ি-টুপিওয়ালা মানুষ তার সাথে খারাপ আচরণ বা প্রতারণা করেছে, একারণে সে তাকে অপছন্দ করে; সেখান থেকেই এমন কথা বলেছে। এমন যদি হয় তাহলে তো বিষয়টি শোধরানো সম্ভব, তাকে বোঝানো সম্ভব-কোনো একজনের অন্যায়ের কারণে তার মতো লেবাস-সুরতের সকল মানুষকে খারাপ বলাটা সমীচীন নয়।

আর নবীজীর সুন্নত হিসেবে দাড়ি রাখা, টুপি পরিধান করা, দ্বীনদারদের লেবাস গ্রহণ করা প্রশংসনীয় কাজ; কিন্তু কারো সাথে খারাপ আচরণ করা বা প্রতারণা করা কারো জন্যই সমীচীন নয়; তার জন্য আরো সতর্ক থাকা উচিত; কারণ, তার বাহ্যিক সুরত বলে-সে এমন কাজ করবে না।

এ তো গেল একদিক। এটি শোধরানো কঠিন কিছু নয়। কিন্তু যদি অন্য কোনো কারণে সে এমনটি বলে থাকে-যেমন, দ্বীনদার মানুষের প্রতি অবজ্ঞা, দাড়ি-টুপির প্রতি অবজ্ঞা, তাহলে তো ঈমানের খতরা! এ অবস্থা হলে নিজের ঈমানের খবর নেওয়া দরকার-

আমার মাঝে নেফাক-মুনাফেকী নেই তো! কারণ আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালবাসা তো আমার ঈমান; তাঁর তো দাড়ি ছিল, তিনি তো টুপি পরিধান করতেন। আমার মাঝে যদি সত্যিকারের ঈমান থেকে থাকে তাহলে দাড়ি-টুপির প্রতিও আমার ভালবাসা-ভালোলাগা থাকবে!

নবীজীর পর সাহাবা-তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, পীর-আউলিয়া থেকে নিয়ে উম্মাহ্র আলেমগণ দাড়ি-টুপিওয়ালা ছিলেন। তাঁদের অনুসরণেই সাধারণ দ্বীনদার মুমিন-মুসলিমরাও দাড়ি-টুপি গ্রহণ করেছে। কারণ যে যাকে পছন্দ করে, তার সাথে তার হাশর হবে। ফলে মুমিনরা চায়-সীরাতে-সুরতে নবী-সাহাবীদের মতো হতে; তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করতে। লেবাস-সুরতে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে। কারণ, তারা নবী-সাহাবীদের দলভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশী; অখেরাতে তাঁদের সঙ্গলাভের প্রত্যাশী। ফলে দাড়ি-টুপি দ্বীন-ঈমানেরই একটি নিদর্শন।

এখন দ্বীন-ঈমানের একটি নিদর্শন দাড়ি যদি আমি দেখতে না পারি, নবী-রাসূলগণের সাদৃশ্য যদি আমার চোখের কাঁটা হয়; কাফেরদের সাদৃশ্য যদি আমার ভালো লাগে, আমি তাহলে নবীজীর ঐ বাণী স্মরণ করি-

مَنْ تَشَبّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.

কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য যে গ্রহণ করে সে তাদেরই একজন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০৩১

হাদীস শরীফে দাড়িকে ‘ফিতরাত’ বা আল্লাহপ্রদত্ত সৃষ্টিগত স্বভাব-এর অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। এই স্বভাবের উপরই আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصّ الشّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ…

দশটি বিষয় ‘ফিতরাতে’র অন্তর্ভুক্ত : মোচ কাটা, দাড়ি লম্বা রাখা,…। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬১

আরবীতে ‘ফিতরাত’ শব্দের অর্থ স্বভাব। আল্লাহ তাআলা যে উত্তম মানবীয় স্বভাব সৃষ্টি করেছেন তার সর্বোত্তম নিদর্শন নবী ও রাসূলগণ। এ কারণে ‘ফিতরাত’ শব্দটির অর্থ করা হয়, আদর্শ ও অনুকরণীয় স্বভাব, তথা নবী ও রাসূলগণের স্বভাব। (দ্রষ্টব্য : ফাতহুল বারী, হাদীস ৫৮৮৯-এর অধীনে)

সকল নবী এ ফিতরাতের উপর ছিলেন। সুতরাং দাড়ি হল ‘ফিতরাত’ ও মুমিনের স্বভাবজাত বিষয় এবং সকল নবীর সুন্নত। এখন বলুন, কেউ যদি নবীদের সুন্নত ও মুমিনের ‘ফিতরাত’-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি দেখতে না পারে তাহলে…! অথচ খোঁজ করলে দেখা যাবে, এ ব্যক্তির পিতা বা দাদাও দাড়ি-টুপিওয়ালা ছিলেন। তাহলে সে কেন এমন কথা বলছে? নিশ্চয় তার মাঝে কোনো রোগ সুপ্ত আছে, যার প্রকাশ ঘটেছে এ বাক্যে! আল্লাহ হেফাজত করুন!

হাদীস ও সুন্নাহ্র বিধান অনুযায়ী দাড়ি রাখা ওয়াজিব। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি রাখার আদেশ করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন-

أَنّهُ أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشّوَارِبِ، وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَة.

আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোচ ছাঁটার ও দাড়ি লম্বা করার আদেশ করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৯

শুধু তাই নয়; দাড়ির ক্ষেত্রে মুশরিক, অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

خَالِفُوا المُشْرِكِينَ: وَفِّرُوا اللّحى، وَأَحْفُوا الشّوَارِبَ.

মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি বড় কর ও মোচ ছাঁটো। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৯২

আরেক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

جُزّوا الشّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللّحى خَالِفُوا الْمَجُوسَ.

মোচ ছাঁটো এবং দাড়ি বড় কর; অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬০

যাইহোক দাড়ি বিষয়ে নবীজীর এমন স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও কোনো মুসলিম দাড়ি নিয়ে এভাবে বলতে পারে না। আল্লাহ্ই রক্ষাকারী!

তেমনিভাবে টুপিও মুসলিম উম্মাহ্র ‘শিআর’-জাতীয় নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের যুগ থেকে প্রতি যুগে এর উপর ব্যাপকভাবে আমল রয়েছে। সুতরাং কোনো মুসলিম কেবল টুপিওয়ালা হওয়ার কারণে তাকে অপছন্দ করা কীসের আলামত-ব্যক্তি নিজেই ভেবে দেখুক।

এছাড়া অনেক নারীকেও এমন বলতে শোনা যায়, আমি দাড়ি-টুপিওয়ালা ছেলে পছন্দ করি না। এটা সকলের ক্ষেত্রে এমন নয় যে, অবজ্ঞাবশত বলছে; বরং তার সমাজ ও চারপাশের দাড়িবিহীন মানুষগুলোকে দেখতে দেখতে তার মাঝে ভালো লাগার বা পছন্দ-অপছন্দের ভিন্ন একটি মানদণ্ড দাঁড়িয়ে গেছে। এটিও সংশোধনযোগ্য। কারণ একটি ছেলের সকল যোগ্যতা রয়েছে; সাথে তার উল্লেখযোগ্য একটি ভালো গুণ-সে নবীজীর সুন্নতকে গ্রহণ করেছে, দাড়ি রেখেছে; (আল্লাহ ও রাসূলের কাছে পছন্দনীয়) তার এই ভালো গুণকে আমি অপছন্দের মানদণ্ড বানাচ্ছি, একারণে আমি তাকে অপছন্দ করছি!

একজন মুসলিম নারী হিসেবে স্বাধীনভাবে একটু ভেবে দেখি, আমার চারপাশ আমার মাঝে পছন্দ-অপছন্দের যে মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছে তা কি গ্রহণযোগ্য? আমি মুসলিম; সে হিসেবে আমার পছন্দ-অপছন্দের এ নীতি উল্টো নয় কী?

আরেকটি বিষয় হল-আমাদের সমাজে এমনও শোনা যায় যে, মুসলিম মালিকের কোম্পানিতে চাকরিপ্রার্থী যোগ্য মুসলিম ব্যক্তিকে সকল যোগ্যতার বিচারে সেরা হওয়া সত্ত্বেও কেবল দাড়ির কারণে চাকরি দেওয়া হয় না; এর চেয়ে অমানবিকতা ও জুলুম আর কী হতে পারে? এটি মানুষকে আল্লাহ্র পথ হতে বাধাদানের একটি জঘন্য মাধ্যম! একে মানসিক বিকার ছাড়া আর কী অভিধায় ব্যক্ত করা যেতে পারে?! আল্লাহ আমাদের এ অবস্থার সংশোধন করে দিন।

সবশেষে মাসিক আলকাউসারে প্রকাশিত ‘ঈমান সবার আগে’ প্রবন্ধে (৩য় কিস্তি, রজব ১৪৩৪/মে ২০১৩ সংখ্যা, পৃ. ১০-১১) এ বিষয়ে যা লেখা হয়েছিল, তা আমরা আবার স্মরণ করি (প্রবন্ধটি বই আকারেও প্রকাশিত হয়েছে। পুরো প্রবন্ধটিই সকলের পড়া প্রয়োজন।)-

“(শিরোনাম) ঙ. পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রে আমার নীতি উল্টা না তো?

জগতে পছন্দ-অপছন্দের অনেক মানদণ্ড আছে। মানুষের স্বভাবটাই এমন যে, এতে সৃষ্টিগতভাবেই কিছু বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে আর কিছু বিষয়ে অনাগ্রহ ও বিমুখতা বরং ঘৃণা ও বিদ্বেষ। কিন্তু কেউ যখন ইসলাম কবুল করে এবং ঈমানের সম্পদ লাভ করে তখন তার হাতে এসে যায় পছন্দ-অপছন্দের প্রকৃত মানদণ্ড। সে মানদণ্ড হচ্ছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর প্রদত্ত শরীয়ত। সুতরাং যা কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে পছন্দনীয় এবং শরীয়তে কাম্য তা মুমিনের কাছে অবশ্যই পছন্দনীয় হবে, যদিও অন্য কোনো মানদণ্ডে লোকেরা তা পছন্দ না করুক, কিংবা স্বয়ং তার কাছেই তা স্বভাবগতভাবে পছন্দের না হোক। আর যা কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে অপছন্দের এবং শরীয়তে নিষিদ্ধ, তা তার কাছে অবশ্যই অপছন্দনীয় হবে, যদিও অন্য কোনো মানদণ্ডে লোকেরা তা পছন্দনীয় মনে করে, কিংবা স্বভাবগতভাবে তার নিজেরও ঐ বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ থাকে। মুমিন সর্বদা নিজের পছন্দ-অপছন্দকে দ্বীন ও ঈমানের দাবির অধীন রাখে। সে তার স্বভাবের আকর্ষণকে আল্লাহ তাআলার রেযামন্দির উপর কোরবান করে।

এজন্য ঈমান যাচাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল, নিজের অন্তরকে পরীক্ষা করা-তাতে পছন্দ-অপছন্দের মানদণ্ড কী। আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও শরীয়তের পছন্দ-অপছন্দ, না প্রবৃত্তির চাহিদা; নিজের গোত্র, দল, দলনেতা, পার্থিব বিচারে মর্যাদাবান শ্রেণী, শুধু শক্তির জোরে প্রবল জাতিসমূহের সংস্কৃতি, সাধারণের মতামত, পার্থিব জীবনের চাকচিক্য কিংবা এ ধরনের আরো কোনো কিছু?

যদি তার কাছে মানদণ্ড হয় প্রথম বিষয়টি তাহলে আল্লাহ্র শোকগোযারী করবে আর যদি মানদণ্ড হয় দ্বিতীয় বিষয়গুলো তাহেল খালিস দিলে তওবা করবে। নিজের পছন্দকে আল্লাহ ও তাঁর বিধানের অধীন করবে, আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উসওয়ায়ে হাসানার (শরীয়ত ও সুন্নতের) অনুগামী করবে এবং ঈমানের তাজদীদ ও নবায়ন করবে।…”

আল্লাহ আমাদের ঈমানের হেফাজত করুন এবং মুসলিমদেরকে এজাতীয় বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাওফীক দান করুন-আমীন।

সবচেয়ে সুন্দর পারিবারিক ভ্রমন কোনটা !! মিজানুর রহমান আযহারী


সবচেয়ে সুন্দর পারিবারিক ভ্রমন কোনটা। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমাদের আজকের এই ভিডিওতে। আশা করি ভাল লাগবে।

বিশ্বনবির নসিহত মেনে চলছে চীন?


চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের উদ্ভব হয়। বর্তমানে এ শহর ছাড়াও ১৩টির বেশি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যার কোনো প্রতিষেধকও আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিশ্বনবির নসিহত মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে চীন কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শহরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে অন্যতম।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ভাইরাসে চীনে মারা গেছে ১৩২ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৯৩ জন।

গবেষকরা ধারণা করছেন, যদি এ ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে তাহলে প্রায় ছয় কোটি মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়তে পারে। যার কোনো প্রতিষেধকও আবিষ্কৃত হয়নি এখনো।

মারাত্মক মরণব্যাধি এ করোনাভাইরাস। এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কুরআন সুন্নাহে কী ধরনের নসিহত রয়েছে তা অনুসরণ করাই সবার জন্য জরুরি।

সম্প্রতি চীন করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার সাধারণ যে উপায় অবলম্বন করছে, দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে উপদেশ দিয়ে গেছেন। তাহলে হাদিসের এ আমলই কি অনুসরণ করছে চীন?

এ রোগের সয়লাব ঠেকাতে চীন সরকার হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে রোগীসহ কোনো মানুষকে অন্য শহরে পাঠাবে না। আবার অন্য শহর থেকে কোনো মানুষকেও এ শহরে প্রবেশ করতে দেবে না। যাতে এ রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। হাদিসের নির্দেশনাও এটি।

‘হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে বা অঞ্চলে যদি কোনে প্রকার প্লেগ বা মহামারি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তোমরা যারা (ওই অঞ্চলের) বাহিরে আছ তারা ওই শহরে প্রবেশ করো না। আর যে শহরে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে তোমরা যদি সে শহরে বসবাস করো তবে তোমরা সে অঞ্চল বা শহর থেকে বাহির হয়ো না।’ (বুখারি, মুসলিম)

মহামারি মূলত আল্লাহর গজব। মহামারি প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি, যা (এ রকম শাস্তি) বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না।’ (তিরমিজি)

চীনের এ হুবেই প্রদেশে বসবাস করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। চীন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে এ শহর থেকে দেশি কিংবা বিদেশি কোনো মানুষকেই এখনই স্থান ত্যাগ তথা বিদেশিদের নিজ নিজ দেশে যেতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সরাসরি হাদিসের আমল, যা দেড় হাজার বছর আগেই ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

করোনাভাইরাস এক অজানা আতঙ্ক। রাসুলে আরাবি মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন অন্যায়, জুলুম ও অশ্লীলতার কারণে আল্লাহ তাআলা জালেম ও অন্যায়কারীদের ওপর অপরিচিত মহামারি চাপিয়ে দেন। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

চীনের করোনাভাইরাস সে রকম ইঙ্গিতই বহন করছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘করোনাভাইরাসটি সার্স বা ইবোলঅর চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে চীনে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে ৮ হাজার ৯৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। যার মধ্যে মারা যায় ৭৭৪ জন। সেটিও ছিল এক ধরনের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো হলো কাশি, জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ও নিউমোনিয়া।

তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে অপরিচিত এসব ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেয়ামতের বার্তা দিয়ে যায়। মানুষকে সতর্ক করে যায়। হাদিসের পরিভাষায়ও এটি পরিলক্ষিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
‘কিয়ামতের আগে ৬টি আলামত গণনা করে রাখো-
>> আমার মৃত্যু; অতঃপর
>> বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়; তারপর
>> তোমাদের মধ্যে বকরির পালের মহামারির মতো ঘটবে মহামারি;
>> সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ দিনার দেওয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। তারপর
>>এমন সব ফেতনা আসবে, যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। তারপর
>> যুদ্ধবিরতির চুক্তি হবে; যা তোমাদের ও বনি আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে ১২ হাজার সৈন্য।’ (বুখারি)

সুতরাং কেয়ামতের আগে এসব ফেতনায় হেফাজত থাকতে হবে। মহামারীর রূপধারণকারী এ ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভে হাদিসের ওপর আমল করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার বিকল্প নেই। বেশি বেশি ইসতেগফার করে জুলুম থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহসহ পুরো মানবজাতিকে দুনিয়ার সব অপরিচিত রোগব্যাধি থেকে হেফাজত করতে অন্যায় জুলুম ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

২৬ বছর অর্থ সঞ্চয় করে হজ করলেন বৃদ্ধা মারিয়ানি


ইন্দোনেশিয়ার ৬৪ বছরের বৃদ্ধা বিধবা নারী মারিয়ানি। দীর্ঘ ২৬ বছরের হার না মানা সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। সংসারে চার সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি হজের জন্য করেছেন দুঃসাহসী সংগ্রাম। সে সংগ্রামে সফল হয়ে এ বছর তিনি পালন করেছেন পবিত্র হজ। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

বৃদ্ধা মারিয়ানি বিধবা। চার সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করা তর জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। সন্তান ও সংসারের হাল ধরতে ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। হজ করার প্রবল আগ্রহ নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি অল্প অল্প করে অর্থ জমা করতে থাকেন। এ বছরই পবিত্র হজ পালনের মাধ্যমে তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়।

গণমাধ্যমের কাছে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‌১৯৮০ সালে তিনি তার স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে তিনি কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। কীভাবে সংসার চালাবেন তা তিনি জানতেন না।

উপায়ন্তর না দেখে তিনি প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, কাডবোর্ড ও কাগজের কাপসহ পথে ঘাটে পড়ে থাকা আবর্জনা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। সেগুলো পুনঃব্যবহারকারী কোম্পানির কাজে তা বিক্রি করেই সংসারের হাল ধরেন।

গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, অনেক কঠিম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সংসার পরিচালনা করেছেন। ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করতেন। বর্ষাকালে তিনি বালু বিক্রি করতেন।

৬৪ বছরের এ বিধবা নারী গত ২৬ বছরে ২৫ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া সঞ্চয় করেন। ২০১৯ সালে হজ পালনের জন্য তিনি সর্বনিম্ন ২৩ মিলিয়ন রুপিয়া জমা করেন।

মারিয়ানির সন্তানরা এখন বড় হয়েছে। যারা এখন তার সব ব্যয়ভার বহন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো বৃদ্ধা মারিয়ানির সন্তানরা জানতেনই না যে, তাদের মা হজের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চয় করে আসছিলেন।

এ বছরের এপ্রিল মাসে যখন তার মা হজে যাওয়ার জন্য ভিসা পেয়েছিলেন তখন তিনি তার সন্তানদের হজ ও জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। এটি ছিল তার জন্য সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার। যে কারো জন্য অনুপ্রেরণামূলক কাজ। বর্তমানে তিনি সব কাজ ও কঠিন পরিশ্রম থেকে মুক্ত। তার বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান তাকে অভিভূত করে তোলে।

হজে যাওয়ার জন্য বিধবা বৃদ্ধা মারিয়ানিই প্রথম নন। এর আগেও একজন দীর্ঘ ৪৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্থ সঞ্চয় করে হজ পালনে গিয়েছিলেন পবিত্র নগরী মক্কায়। সম্পন্ন করেছিলেন হজ। হজ পালন করতে গিয়ে তিনি মারা যান।

এদিক থেকে ৬৪ বছরের মারিয়ানি অনেক ভাগ্যবান। অর্থ সঞ্চয়ে ২৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি সম্পন্ন করেছেন পবিত্র হজ। বৃদ্ধা মারিয়ানি হোক মুসলিম উম্মাহর অনুপ্রেরণা।

আল-আকসায় ২৪০ জনের ইসলাম গ্রহণ


বিশ্বব্যাপী চরম মুসলিম সংকটের মাঝেও পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ উদ্দীপনায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমে ইসরাইলি বাহিনীর চরম অত্যাচার-নির্যাতনও ইসলাম গ্রহণের অব্যাহত ধারাকে রুখতে পারেনি। সদ্য বিদায় নেয়া ২০১৯ সালেও আল-আকসায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৪০ জন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।

২০১৯ সাল মুসলিম উম্মাহর জন্য চরম দুঃখ ও বেদনার বছর। বছরজুড়েই বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিমরা ছিল অত্যাচার-নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু। অন্যান্য বছরের তুলনায় উন্নতির চেয়ে মুসলিমদের অবস্থান অবনতির দিকে। যার প্রমাণ রাখাইনের রোহিঙ্গা নির্যাতন, জম্মু-কাশ্মীরের অধিকার হরণ, নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, নরওয়েতে কুরআনের ওপর আক্রমণসহ সর্বশেষ ২০১৯ সালেই ভারতে শুরু হওয়া মুসলিমবিরোধী সব কালো পরিকল্পনা।

মুসলমানরা বেদনা ও হতাশায় বছর পার করলেও কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতাটি তাদের জন্য যথার্থ। কবির ভাষায়, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে’। কবিতার কথাগুলো মুসলমানদের জন্য সত্য প্রমাণিত হয়েছে। মুসলমানদের জন্য ভয়, হতাশা ও দুর্দশার ‘আড়ালে সূর্য হাসে’-এর মতো দারুণ খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনভিত্তিক গণমাধ্যম আল কুদস।

নির্যাতিত ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমের আল-আকসায় ২০১৯ সালেও পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৪০ জন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। তামিলনাড়ুর দলিত সম্প্রদায়ের ৩ হাজার লোকের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণাও এসেছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে। যারা ৫ জানুয়ারি ২০২০ সাল থেকে পুরো গ্রামের লোকেরা ধাপে ধাপে গ্রহণ করবে পবিত্র ধর্ম ইসলাম। নিঃসন্দেহে এসব ঘটনা ইসলামের বিজয়ের আগাম বার্তা।

পৃথিবীব্যাপী সব অত্যাচার নির্যাতনের মাঝেও বছরজুড়ে ইসলাম ও মুসলমানদের রয়েছ অনেক সাফল্য। ইসলামের সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন দেশ ও জাতিতে ইসলাম গ্রহণের ধারাবাহিকতা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেড়েই চলেছে। বিদায়ী বছর ২০১৯ সালে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় এসে ২৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ২৪০ জনের মধ্যে অধিকাংশই খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে গ্রহণ করেছেন ইসলাম। বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ দাঈ ও ওলামা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইসলামিক স্কলারস-এর চেয়ারম্যান শায়খ ইকরিমা সাবরির বরাতে আল-আকসা গণমাধ্যম এ সুখবর জানায়।

যাদের নামাজ কবুল হবে না


ঈমানের পর নামাজ হলো ইসলামের প্রধান ইবাদত। আল্লাহ তাআলা মানুষে উপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ বা আবশ্যক করেছেন। আর এ নামাজকে যথাসময়ে আদায় করাও আবশ্যক করেছেন। আবার কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেয়াকে কুফরি কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

অথচ এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আল্লাহর হুকুম পালনে নামাজ আদায় করেন ঠিকই কিন্তু তাদের নামাজ কবুল হয় না। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রকম ৩ শ্রেণির ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কান অতিক্রম করে না-
>> পলাতক ক্রীতদাস; যতক্ষণ না সে ফিরে আসে।
>>এমন স্ত্রী; যার স্বামী তার উপর রাগ অবস্থায় রাত কাটিয়েছে। এবং
>> ওই ইমাম; যাকে লোকে অপছন্দ করে।’ (তিরমিজি)

>> গনককে হাত দেখালে
নিজের জীবনের ভালো-মন্দ জানার আগ্রহ নিয়ে কোনো গনককে হাত দেখালেও ওই ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না। আর যদি গনের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে তবে ওই ব্যক্তি ঈমানহীন হয়ে যাবে। হাদিসে এসেছে-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কোনো (ভূত কিংবা ভবিষ্যৎ ভালো-মন্দ বা অদৃশ্য) বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে ওই ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না।’ (মুসলিম)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তার দেয়া তথ্যকে সত্য মনে (বিশ্বাস) করলো, ওই ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ কুরআনের প্রতি কুফরি করলো।’ (মুসনাদে আহমদ)

>> মদ পানকারী
কোনো মুসলিম যদি মদ পান করেন তবে তারও ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না বলে হাদিসে ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি মদ পান করবে, আল্লাহ ওই ব্যক্তির ৪০ দিনেরনামাজ কবুল করবেন না।’ (নাসাঈ)

>> যারা নামাজের হক আদায় করে না
নামাজ পড়ার সময় যারা নামাজের প্রতিটি রোকন তথা রুকু-সেজদা যথাযথ আদায় করে না, তাদের নামাজও হয় না। হাদিসে এসেছে-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘হে মুসলিমরা! ওই ব্যক্তির নামাজ হয় না; যে ব্যক্তি রুকু ও সেজদায় নিজেদের পিঠ সোজা করে না।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ)

– অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ ওই বান্দার নামাজের দিকে তাকিয়েও দেখেন না, যে রুকূ ও সেজদার সময় নিজেদের পিঠকে (রুকু-সেজদা থেকে উঠে) সোজা করে না।’ (মুসনাদে আহমদ)

আজান শুনে জামাআতে অবহেলাকারী
যে ব্যক্তি আজান শোনার পর বিনা ওজরে মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজ আদায় করে তার নামাজও কবুল হয় না। হাদিসে এসেছে-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আজান শোনার পরও মসজিদে জামাআতে এসে নামাজ আদায় করে না। কোনো ওজর না থাকলে ওই ব্যক্তির নামাজও কবুল হয় না।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

এছাড়াও যাদের নামাজ হয় না বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলো-
>> ‘সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে গমনকারী নারী। ওই নারী নাপাকির গোসলের ন্যয় উত্তমভাবে গোসল না করলে তার নামাজও কবুল হয় না ‘ (ইবনে মাজাহ)
>> মা-বাবার অবাধ্য সন্তানের নামাজও কবুল হয় না।
>> দান করার পর দানের কথা গর্ভের সঙ্গে প্রচার করা ব্যক্তির নামাজ হয় না।
>> যে ব্যক্তি তকদিরকে অস্বীকার করে।
>> পরের বাপকে যে নিজের বাপ বলে দাবী করা ব্যক্তির নামাজও কবুল হয় না।’ (বুখারি-মুসলিম)
>> কোনো মুসলিমকে হত্যা করে এবং তাতে গর্ববোধ করে আর খুশি হয়, ওই ব্যক্তি নামাজ কবুল হয় না।’
>> কেসাসের বিধান বাস্তবায়নে অর্থাৎ খুনের বদলে খুনের বদলা নিতে যে ব্যক্তি (শাসন কর্তৃপক্ষ বা বিচারককে) বাধা দেয়। ওই ব্যক্তির নামাজ কবুল হয় না।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)
>> যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার নামাজ কবুল হয় না।’ (বুখারি-মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা। হাদিসে ঘোষিত উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে নিজেদের হেফাজত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জার্মানির ডুডেন অভিধানে যুক্ত হলো ‘ইনশাআল্লাহ’!


‘ডুডেন’ একটি অভিধান। এটি জার্মান ভাষার অভিধান। ১৮৮০ সালে এ অভিধানটি প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি এ অভিধানটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে ধর্মীয় পরিভাষার বহুল ব্যবহৃত একটি আরবি শব্দ ‘ইনশাআল্লাহ’, যা মুসলিম উম্মাহ যে কোনো কথা ও কাজের সংকল্প করার ক্ষেত্রেই বরকত লাভে বলে থাকে।

‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি আরবিতে আল্লাহর কাছে কল্যাণকামী সাহায্য লাভের পরিভাষায়। এর অর্থ হলো- যদি আল্লাহ চান। মুসলমানরা যখন ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে তখন এভাবে বলে যে, ‘আমি এ কাজটি করব, ইনশাআল্লাহ।’
অর্থাৎ যদি আল্লাহ তাআলা চান তবে আমি এ কাজটি করবো। তবে সে কাজে আল্লাহ তাআলা বরকত দেন। কেননা আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজই সংঘটিত হয় না

Duen-1

এ ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিই যুক্ত হয়েছে জার্মান ভাষায় রচিত অভিধান ‘ডুডেন’-এ। ডুডেন ওয়েবসাইটে গিয়ে ইংরেজিতে ‘Inshallah’ লিখে অনুসন্ধান করলে এভাবে জার্মান ভাষায় ‘inschallah’ লেখা আসে। শব্দটির অর্থ লেখা আছে এভাবে- ‘wenn Allah will’। এর অর্থ হয়- ‘আল্লাহ যদি চান।’

উল্লেখ্য, ১৮৮০ সালে প্রকাশিত শতাধিক বছরের পুরোনো এ অভিধানের ছাপানো কপিতে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি থাকবে কিনা এটি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে অনলাইন সংস্কারে এটি যুক্ত হয়েছে।

এ অভিধানের প্রবক্তা হলেন কনরাড ডুডেন। ১৮৮০ সালের পর থেকে প্রতি ৪-৫ বছর পর পর ডুডেন অভিধানে নতুন নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

বিশ্বনবির আনুগত্যে মিলবে যেসব নেয়ামত


দ্বীনের পথে অটল ও অবিচল থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এটিকে মুমিন মুসলমানের জন্য মানদণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কারণ আল্লাহর ভালোবাসা পেলেই মানুষের দুনিয়া ও পরকালের সব কল্যাণ সুনিশ্চিত।

দুনিয়ার শান্তি ও শাস্তি দুটোই ক্ষণিকের। কিন্তু পরকালের সময়কাল শেষ হবে না। পরকালে বিচার দিবসের চিত্রেই আগের আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ তার সব আমলনামা দেখতে পাবে, যা থেকে পলায়ন করতে চাইবে। সে কথাও আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্ক করতে কুরআনে তুলে ধরেছেন।

মানুষ সাধারণত মুখে মুখে নিজেকে আল্লাহওয়ালা তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে জাহির করতে চায়। পরিচয় দিতে চায়। এ কথা বুঝাতে চায়, যে দ্বীন ও ঈমানের উপর তিনি অটল ও অবিচল। তাদের উদ্দেশ্যে এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ছোট্ট একটি মানদণ্ড তুলে ধরেছেন। যে মানদণ্ডে প্রকাশ পাবে- সত্যিকারার্থে কে আল্লাহওয়ালা হওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অনুবাদ : ‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ কর; তাহলেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১)

আয়াত নাজিলের কারণ
সুরা আল-ইমরানের ৩১ নং আয়াতটি শুধু মুমিন মুসলমানের জন্যই নয় বরং সব ধর্ম বর্ণের মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের সব কর্মপন্থার এমন এক মানদণ্ড সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। যে মানদণ্ড পালনেই রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তি। সে মানদণ্ড হলো শুধু প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করা। আর তাতেই আল্লাহর ভালোবাসা তথা দুনিয়া ও পরকালের মহাসাফল্য সুনিশ্চিত।

আয়াতটি নাজিল প্রসঙ্গে জানা যায়-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তার কাছে কিছু লোক এসে বলল, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা আল্লাহর নামে শপথ! করে বলছি যে, আমরা আমাদের প্রভুকে (আল্লাহকে) ভালোবাসি। তখন এ আয়াত নাজিল।
এ মর্মে আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে যে, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি কর, তবে আল্লাহর প্রিয় রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ রূপে আনুগত্য করার কষ্টি পাথর দিয়ে তোমাদের দাবি ও প্রমাণ উপস্থাপন কর। কেননা যে যত বেশি তাঁর অনুসরণ করবে সে তত বেশি আল্লাহ পাকের প্রতি তার প্রেম ভালোবাসার প্রমাণ দেবে।

আয়াতের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর ভালোবাসা ও ইসলামের পরিপূর্ণতার জলন্ত প্রমাণ।

এ আয়াতের ব্যাখ্যা হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের একটি তাফসির এসেছে-
‘মক্কার পৌত্তলিক মূর্তি পুজারীরা কাবা শরিফে ভেতরে মূর্তি স্থাপন করেছিল। আর বণ্য মুরগীর ডিম তার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখেছিল। আর সেগুলোর কানে বালি পরিয়ে সেগুলোর সামনে সেজদা করছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে গেলেন, কিছু অপেক্ষা করলেন এবং বললেন-

‘হে কুরাইশ! তোমরা তোমাদের পিতামহ ইবরাহিম ও ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর তরিকা বা পদ্ধতির বিরোধিতা করছো।

তখন কুরাইশরা বলেছিল, ‘আমরা তো আল্লাহর মহব্বতে মূর্তি পূজা করি। যাতে এ পূজার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য বা ভালোবাসা লাভ করতে পারি। তখন এ আয়াত নাজিল হয়।

এ আয়াতের শানে নুজুলে তাফসিরে আরও এসেছে-
>> নাযরানের এক খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল যখণ বলছিল যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণেই হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের আনুগত্য প্রকাশ করি। তখন এ আয়াত নাজিল হয়। তাই আয়াতে নির্দেশ আসে এভাবে যে-
আল্লাহর প্রতি যদি তোমাদের অন্তরে সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে তবে তোমরা আল্লাহর প্রিয় নবি, সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলের পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণ কর। এর দ্বারাই আল্লাহ তাআলার প্রতি তোমাদের ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যাবে আর আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।

মূলত যারা ইসলাম নিয়ে তালবাহানা করতো, সেসব ইয়াহুদি ও নাসাদের উদ্দেশ্যেই আয়াতটি নাজিল হয়। যারা মুখে মুখে নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভালোবাসার কথা বলতেন। তাইতো আল্লাহ তাআলা আয়াতটি সেসব লোকদের জন্য নাজিল করেছেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ‘আল্লাহর ভালোবাসা ও দুনিয়া এবং পরকালের সাফল্য লাভে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জীবনের সবক্ষেত্রে আনুগত্য করা।

এ আয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আনুগত্য করলে মুমিন মুসলমান বিশেষ দুটি নেয়ামত লাভ করবে। সেটিও ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আর তাহলো-

>>আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ভালোবাসবেন। আল্লাহর ভালোবাসা লাভে ধন্য হবে মুমিন।
>> আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তার কোনো গোনাহ থাকবে না।

তাই যদি কোনো মানুষ আল্লাহর ভালোবাসা পায় আর তার জীবনের গোনাহগুলো ক্ষমা পায় তবে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কি হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের সর্বাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের ঘোষিত নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে ইসলাম যা বলে


ব্যাভিচারের চেয়েও ভয়ংকর অপরাধ হলো ধর্ষণ। ইসলামে ব্যভিচারের মতো ধর্ষণও কবিরা গোনাহের শামিল। সে কারণে যে কোনো ব্যক্তির ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আবশ্যক।

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে যদি ধর্ষণকারীকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়, তাতেও সমর্থন দিয়েছে ইসলাম। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণাতেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

হজরত সাঈদ ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে, সে শহিদ। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহিদ। দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহীদ। আর সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহিদ।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, যদি কোনো ব্যক্তি নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে আর সে প্রতিরোধে হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটে তাতেও কোনো দোষ নেই। কেননা সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে যদি প্রতিরোধকারী নিহত হয় তবে সে পাবে শাহাদাতের মর্যাদা। এ প্রতিরোধে সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারীও নিহত হতে পারে।

সমাজে ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে বাঁকা চোখে দেখে। তার প্রতি অবহেলা ও নানান কটুক্তি করে থাকে মানুষ। যা কোনোভাবে কাম্য নয়। কেননা ধর্ষনের শিকার হওয়া ব্যক্তি বল প্রয়াগকারী বা ক্ষমতাধর ব্যক্তির অত্যাচারের শিকার। ইসলামের আলোকে এ ব্যক্তি মাজলুম।

তাই যে ব্যক্তি ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তাকে ধর্ষণ হওয়ার কারণে যেমন অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা যাবে না তেমনি তাকে বাঁকা চোখে দেখা কিংবা কটুক্তিও করা যাবে না।

পক্ষান্তরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগে যদি কোনো ব্যক্তির প্রতি ঘৃণ্য এ অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয় তবে এ কারণে ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তির কোনো পাপও হবে না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ এবং বল প্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ)

ইসলাম শুধু ব্যভিচারের শাস্তিই ঘোষণা করেনি বরং ব্যভিচারের সমগোত্রীয় ধর্ষণেরও মারাত্মক ভয়াবহ শাস্তির বিধানও রেখেছে। কেননা ব্যভিচার উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘটিত হয় আর ধর্ষণ এক পক্ষের ইচ্ছায় অন্যের উপর ক্ষমতা বা বল প্রয়োগে হয়।

তাই ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তি মাজলুম বা অত্যাচারিত। আর ইসলামে মাজলুমের কোনো শাস্তি নেই। এক্ষেত্রে শাস্তি হবে শুধু ধর্ষণকারীর। ইসলামে এ সব ক্ষেত্রে শাস্তি প্রয়োগের সুস্পষ্ট বিধান রেখেছে।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে দুইটি বিষয় সংঘঠিত হয়। আর তাহলো-
>> যিনা বা ব্যভিচার।
>> বল প্রয়োগে সম্ভ্রম লুণ্ঠন

যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে দুই ধরনের হয়ে থাকে। ব্যভিচারী যদি অবিবাহিত হয় তবে এক ধরণের শাস্তি। আর যদি বিবাহিত হয় তবে ভিন্ন শাস্তি।

অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি
ব্যভিচারী যদি অবিবাহিত হয় তবে তাদের প্রকাশ্য বিচারালয়ে ১০০ বেত্রাঘাত করা। বেত্রাঘাতের সময় হদ বাস্তবায়নকারীর অন্তরে কোনো মায়া বা ভালোবাসা পোষণ করা যাবে না।

বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি
ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তবে তাদের প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করা।

ধর্ষকের শাস্তি
বল প্রয়োগে যে ব্যভিচার সংঘঠিত হয় তাই ধর্ষণ। এক্ষেত্রে যে বল প্রয়োগ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করবে তার শাস্তি হবে। আর যে বল প্রয়োগের শিকার হবে তার কোনো শাস্তি হবে না। তবে ধর্ষকের শাস্তি প্রয়োগে একাধিক মত রয়েছে। যা তুলে ধরা হলো-

>> ইমাম আবু হানিফা, শাফেঈ ও আহমদ ইবনে হাম্বাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম-এর মত হলো- ‘ধর্ষণের জন্য ব্যভিচারের শাস্তি প্রযোজ্য হবে।’ অর্থাৎ ধর্ষক অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত আর বিবাহিত হলে পাথর মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করা।

>> ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহির মত- ‘ধর্ষণের অপরাধে ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের পাশাপাশি ‘মুহারাবা’র শাস্তিও প্রয়োগ করতে হবে।

মুহারাবা কি?
‘মুহারাবা’ হলো অস্ত্র দেখিয়ে বা অস্ত্র ছাড়াই ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা কিংবা লুণ্ঠন করা। এক কথায় ‘মুহারাবা’ হলো পৃথিবীতে অনাচার সৃষ্টি, লুণ্ঠন, নিরাপত্তা বিঘ্নিতকরণ, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ইত্যাদি। এ সব অপরাধের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ ঘোষণা করেন-
‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে-
>> তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা
>> শূলীতে চড়ানো হবে অথবা
>> তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে (ডান হাত বাম পা/বাম হাত ডান পা) কেটে দেয়া হবে অথবা
>> দেশ থেকে বহিষ্কার তথা নির্বাসিত করা হবে।
এটি হল তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৩৩)

এ আয়াতের আলোকে বিচারক ধর্ষণকারীকে ব্যভিচারের শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখিত ৪ ধরনের যে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবে। কেননা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ধর্ষণ হলো আল্লাহ ও তার রাসুলের নিয়ম-নীতি বিরুদ্ধ অপরাধ। আর তা তাদের সঙ্গে যুদ্ধে উপনীত হওয়ার শামিল।

তাছাড়া ধর্ষণের ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করা হয়। ইসলামের বিধান লঙ্ঘনে বল প্রয়োগ করলেও এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

তাই সমাজে যখন ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করে তখন সমাজ থেকে ধর্ষণ সমূলে উৎপাটন করতে (মুহারাবার) মতো ভয়াবহ শাস্তি প্রয়োগ করাও জরুরি।

আর যদি ধর্ষণ কারণে হত্যাজনিত অপরাধ সংঘটিত হয় কিংবা ধর্ষণের শিকার কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তবে ঘাতকের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

ইসলামের প্রথম যুগের জোরপূর্বক ব্যভিচার তথা ধর্ষণের কিছু বিচারের বর্ণনা-
>> হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধর্ষককে হদের (ব্যভিচারের) শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ)
(কুরআন-হাদিসে বহু অপরাধের ওপর শাস্তির বিধান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কুরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত তাকে হদ বলে।)

>> হজরত নাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, ‘(হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে) এক ব্যক্তি এক কুমারী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। লোকজন ধর্ষণকারীকে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত করলে সে (ধর্ষক) ব্যভিচারের কথা অকপটে স্বীকার করে। লোকটি ছিল অবিবাহিত। তাই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশ মোতাবেক লোকটিকে বেত্রাঘাত করা হলো। এরপর তাকে মদিনা থেকে ফাদাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।’ (মুয়াত্তা মালিক)

>> হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে সরকারি মালিকানাধীন (কাজে নিযুক্ত) এক গোলাম এক দাসির সঙ্গে জবরদস্তি করে ব্যভিচার (ধর্ষণ) করে। এতে ওই দাসির কুমারিত্ব নষ্ট হয়ে যায়। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ওই গোলামকে কষাঘাত (বেত্রাঘাত) করেন এবং নির্বাসন দেন। কিন্তু দাসিকে কোনো শাস্তি প্রদান করেননি।’ (বুখারি)

মূল কথা হলো
ইসলাম যদিও মানব সমাজকে যিনা-ব্যভিচারের আশঙ্কা থেকে বাঁচানো জন্য দণ্ডবিধি আইনের কথা উল্লেখ করেছেন। এটি নিছক বিচারের শেষ উপায়।

এ বিধান নাজিলের উদ্দেশ্য এটি নয় যে, মানুষ অপরাধ করে যেতে থাকবে আর ইসলাম হদ প্রয়োগ তথা বেত্রাঘাত, হত্যা বা দেশান্তরিত করতে থাকবে। বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, লোকেরা যেন এ অপরাধ না করে এবং কাউকে শাস্তি দেয়া বা কারো উপর জোর-জবরদস্তি করার সুযোগই না পায়।

তাই অপরাধমুক্ত মানব সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি মানুষে মনে আল্লাহর ভয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে সে দুনিয়ার যাবতীয় অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে।

আর ঈমানের অপরিহার্য দাবিও হচ্ছে মানুষ অপরাধমুক্ত জীবন প্রতিষ্ঠা করবে। আল্লাহর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অপরাধ ছেড়ে দেবে। দুনিয়া ও পরকালের জবাবদিহিতার মানসিকতা নিজেদের মধ্যে তৈরি করবে।

আল্লাহ তাআলা পুরো মানবজাতীকে ইসলামের গর্হিত কাজগুলো ছেড়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। কুরআনের বিধানগুলো যথাযথ পালনের তাওফিক দান করুন। তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ভিত্তিক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বোলডেজার দিয়ে উইঘুরদের মসজিদ ভাঙলো চীন


জিংজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায় উইঘুর। দীর্ঘদিন ধরে চীন প্রশাসন উইঘুর মুসলিমদের উপর চালাচ্ছে অত্যাচার নির্যাতন। ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে আটক রেখেছে বন্দী শিবিরে। জোর করে মুসলিম নারীদের গর্ভপাত করাচ্ছে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে মুসলিম নারীদের। জোরপূর্ব মুসলিম নারীদেরকে চীনাদের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এবার তারা উইঘুর মুসলিমদের একটি মসজিদ বোলডেজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদী চীনের জিংজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দেশটির সরকারের নীরব নির্যাতন, অভিযান, ধর্মীয় নিপীড়ন এবং সংখ্যালঘু এ জাতির স্বাধীনতা হরণ করার অসংখ্য সংবাদ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সম্প্রতি জিংজিয়াং প্রদেশের উইঘুরদের একটি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়ার খবরটি প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী আরবি গণমাধ্যম আল-উম্মাহ।

আল-উম্মাহর প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘উইঘুর অধ্যুষিত পূর্ব তুর্কিস্তানের (জিংজিয়াং) একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে চীনের সেনাবাহিনী। গুড়িয়ে দেয়া মসজিদের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি। যাতে দেখা যায়, মসজিদের দেয়ালসহ মূল স্থাপনার একটি অংশ ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

উইঘুর মুসলিম নির্যাতন ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী চীন সরকারের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক উইঘুর মুসলিমকে বন্দী শিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি জাতিসংঘেও উঠেছে।

অগাস্ট ২০১৯-এ জাতিসংঘের একটি কমিটি জানতে পারে যে, ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের কয়েকটি বন্দী শিবিরে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। চীন সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও উইঘুর মুসলিমদের উপর চালানো অত্যাচার ও নিপীড়ন তথ্যপ্রমাণসহ দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তবে এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে বন্দী শিবিরে আটক রেখে তাদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বলপূর্বক তাদের কমিউনিস্ট পার্টির মতাদর্শে বিশ্বাস স্থাপন করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে নিজ ধর্মের সমালোচনা করতে তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে।

১০ হাজার উট না মেরে ইসলামি রীতিতে দান করার আহ্বান


খরা আর দাবানলে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া। পানি শূন্য হয়ে পড়ছে দেশটি। পানি পানের প্রয়োজনে বন্য উটগুলো লোকালয়ে আসতে শুরু করেছে। পানির খোঁজে উটের বিচরণের কারণে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা। ফলে ১০ হাজার উট হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটি।

এছাড়া মিথেন গ্যাস সৃষ্টির জন্যও দায়ী করা হচ্ছে উটকে। এ কারণে দেশটি ১০ হাজার উট মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে ১০ হাজার উট মেরে ফেলার পরিবর্তে ইসলামি রীতিতে জবাই করে তা দান করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের দেশ তুরস্কের সরকারি মানবিক সহযোগিতা সংস্থা।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আনানজু পিতজানৎজাতজারা ইয়ানকুনিৎজাতজারা ল্যান্ডস (এওয়াইপি) খুবই খরাপ্রবণ এলাকা। যে কারণে এ অঞ্চলে পানির খুব সংকট। এখানকার বন্য উটগুলো খুব বেশি করে পানি খেয়ে নিচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের জন্য থাকছে না পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি।

সে কারণে বিশ্ব উষ্ণায়নের অজুহাতে এ অঞ্চলের অন্তত ১০ হাজার উট হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। হেলিকপ্টার থেকে বন্য উটগুলোকে গুলি করে মারা হবে বলে জানা যায়। অস্ট্রেলিয়াকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক।

ফিলিস্তিনভিত্তিক গণমাধ্যম গাজা আল-আনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কের সরকারি মানবিক সহযোগিতা সংস্থা (আইএইচএইচ)এর সহকারি পরিচালক সিরকান নার্গিস ১০ হাজার উট গুলি করে না মেরে সে গুলোকে ইসলামি রীতি অনুযায়ী জবাই করে বিশ্বের দরিদ্র ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষদের মাঝে বিতরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্কের আইএইচএইচ সংস্থাটি এ মর্মে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে, অস্ট্রেলিয়া যেন তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। তারা এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়ায় গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে দাবানল। সম্প্রতি এ দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছেন। দাবানলের আগুনের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আগুনের উত্তাপে পশু-পাখিসহ নানান প্রজাতির প্রাণী ও সরিসৃপ মারা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ৫০ কোটি প্রাণী মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

শুধু বন্য প্রাণীই নয়, দাবানল লোকালয়েও ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২শ ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ১০ হাজার উট না মেরে তা জবাই করে প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষকে দান করার কাজে সহযোগিতা করলে নিঃসন্দেহে দেশটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হবে।

সৌদির কারাগারে প্রখ্যাত দাঈ সালমান আওদার প্রতিবাদ


সৌদি আরবের প্রখ্যাত তিন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে আটক। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষের নিপীড়নের প্রতিবাদ করেন প্রখ্যাত দাঈ শায়খ সালমান আল-আওদাহ। নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। খবর মিডলইস্ট মনিটর।

শায়খ সালমান আল-আওদাহ সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় কারাগারে আটক। সম্প্রতি তার পরিবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেন। কারা কর্তৃপক্ষের নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের প্রতিবাদস্বরূপ তিনি সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করেন।

সম্প্রতি এক শুনানিতে আদালত তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি। সালমান আওদার ছেলে আবদুল্লাহর বক্তব্য থেকে জানা যায়, ‘সালমান আওদার পরিবারকে সোমবার সালমান আওদার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সৌদি আরবের অপরাধ আদালত গত ২৭ নভেম্বর সালমান আল-আওদার বিচার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করে। সালমান আল-আওদাহ ছাড়াও দেশটির অনেক শিক্ষাবিদ, গবেষক ও স্কলার ইমামকেও গ্রেফতার করা হয়।

 

পানি পানে যে ৬টি আমল করতেন বিশ্বনবি


ইসলামের বিধান শুধু নামাজ রোজা হজ জাকাত তথা ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং দুনিয়ার প্রতিটি কাজের সঙ্গেই ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামের রীতি-নীতি জড়িত। খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছুই মানুষের জন্য ইবাদত হবে যখনএসব কাজ ইসলামি পদ্ধতিতে করা হবে।

যেমন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। আবার জীবনধারণে পানি পান করাও আবশ্যক। পানির অপর নাম জীবন। জীবন বাঁচাতে পানি পানের বিকল্প নেই। সব সৃষ্টিরই বেঁচে থাকার তাগিদে পানি পান করতে হয়।

আর মানুষের পানি পানে রয়েছে কিছু ইসলামি নিয়ম ও পদ্ধতি। কাজটি ছোট হলেও প্রতিদিন অনেকবার মানুষকে পানি পান করতে হয়। পানি পানের সময় স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু আমল করতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব জীবনের এ আমলগুলো উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। আমলগুলো হলো-

>> পানি পানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা পানি পান করতে যাবে তখন প্রথমেই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়বে।’ (তিরমিজি)

শুধু পানি পানের সময়ই নয়, বরং যে কোনো কিছু খাওয়ার সময় এবং ভালো যে কোনো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে।

>> সবসময় ডান হাতে পানি পান করা-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কখনো খাবার এবং পানীয় বাম হাতে গ্রহণ করবে না। কেননা শয়তান বাম হাতে খাবার গ্রহণ করে।’ (মুসলিম)

সব ভালো কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার মতো ভালো কাজে ডান হাত ব্যবহার করাও উত্তম। এমনকি পোশাক পরার সময়ও আগে ডান দিক থেকে শুরু করা। আর ডান দিক থেকে শুরু করতে হলে ডান হাতই ব্যবহার করতে হয়।

>> সবসময় বসে পানি পান করা-
হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসলিমে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (আগে) বসুন এবং পানি করুন।’

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মতেও এটি সর্বজন বিদিত যে, দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে বসে পানি পান করা বেশি ভালো। আ বসে পানি পান করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুন্নাত।

>> ৩ নিঃশ্বাসে পানি পান করা-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কখনো এক নিঃশ্বাসে পানি পান করোনা। বরং তোমরা দুই কিংবা তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করো।

অনেককেই দেখা যায়, পানি পান করার সময় ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় এক নিঃশ্বাসে মগ কিংবা গ্লাসে পুরো পানি পান করে থাকে। আবার অনেকে পানিও পান করতে থাকে আর নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। এর কোনোটিই ঠিক নয় বরং সুন্নাত বিরোধী কাজ। তাই পানি পানের সময় অল্প অল্প করে ২/৩ বারে পানি পান করা। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানেও এটি উপকারী।

>> গ্লাসের পানিতে নিঃশ্বাস না ছাড়া
তিবরানিতে এসেছে, ‘পানি পান কিংবা খাবার গ্রহণের সময় মুখ থেকে পানি কিংবা খাবারে নিঃশ্বাস না ছাড়া।’

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, অনেক সময় মুখে অনেক বা মুখের সামনে অনেক ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু থাকে। পানি বা খাবারে ফুঁ দেয়া বা নিঃশ্বাস ফেলানোর ফলে এ জীবানু ব্যাকটেরিয়া পানি ও খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। আর তাতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

>> সবসময় পানি পানের পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়া
পানি পানের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ সবসময় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা। সুন্দর ও নিরাপদভাবে খাবার ও পানীয় গ্রহণের পর আল্লাহর প্রশংসামূলক বাক্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলায় তারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পানি পানের সময় সহজ এ আমলগুলো নিয়মিত আদায় করার তাওফিক দান করুন। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভ করার তাওফিক দান করুন। করুন। আমিন।

কাবা শরিফে যে ছাতার নিচেই নামাজে দাঁড়াবে ২৫০০ মানুষ


কাবা শরিফের আঙিনায় তৈরি করা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা। নির্মানাধীন একটি ছাতার নিচেই অবস্থান করতে পারাব ২৫০০ মানুষ। বাইতুল্লাহ চত্ত্বর থেকে প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হচ্ছে এ ছাতা। রোদের তীব্রতা থেকে সুরক্ষা দিতেই নির্মাণ করা হচ্ছে এ ছাতা।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম প্রয়াত বাদশাহ মালিক আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-সাউদ প্রচণ্ড তাপমাত্রায় হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের কষ্টের কথা চিন্তা করেই এ ছাতা নির্মাণে ঘোষণা দেন।

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের সুবিধার্তে মদিনার মসজিদে নববির ভেতরের উন্মুক্ত স্থান ও বাইরের আঙিনায় স্থাপিত ভাঁজ করা ছাতার আদলেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন হারামাইন কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র কাবা শরিফের আঙিনায় স্থাপিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ ছাতা ৩০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হবে। ছাতাটি দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে ৫৩ মিটার। অর্থাৎ ছাতাটি ২৮০৯ বর্গমিটার।

সৌদি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাপানের টেকনোলজিতে জেনারেল প্রেসিডেন্সি টু হলিমস্ক নামের একটি কোম্পানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাঁজ করা ছাতা নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। এ কাজে ২৫ জন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও সেপটি এক্সপার্টরা এ কাজে অংশ নিয়েছেন।

৩০ মিটার উচ্চতায় নির্মিত প্রতিটি ছাতার ওজন হবে প্রায় ১৬ টন। হারাম শরীফের উপরে ৮-টি হাই টেকনোলোজি সাইজের ছাতা বসানো হবে। হারামের উত্তর পাশে ৫৪-টি ছাতা বসানো হবে। সবকটি ছাতা মিলে প্রায় ১৯-হাজার ২০০-শত স্কয়ার মিটার স্থান জুড়ে ছায়া দিবে। কাবা শরীফের ছাদও মডেল ছাতার ছায়া তলে থাকবে।

ভাঁজ করা এ ছাতাগুলোতে থাকবে বড় ঘড়ি ও এইচডি স্ক্রিন। যাতে হাজীদের জন্য থাকবে দিকনির্দেশনা। ছাতাগুলো এসির সাহায্যে গরমে ঠাণ্ডা দিবে। হাজী ও প্রার্থনাকারীদের বিশ্রামর জন্য ছাতার নিচে থাকবে ২২-টি বেন্স ও হাই সিকিউরিটি ব্যবস্থা।

মসজিদে হারামের উত্তের পাশেই স্থাপিত ছাতাগুলোর নিচে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পাড়বে ৪ লাখ মুসল্লি। ছাতাগুলো খোলার সময় মনে হবে যেমন বাগানে ফুল ফুটছে। এ ছাতা নির্মিত হলে বায়তুল্লাহ চত্ত্বরসহ কাবা শরিফের দৃশ্য হবে দৃষ্টিনন্দন ও অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপনা।

তাকবিরে তাশরিক পড়ার বিধান আসলো যেভাবে


তাকবিরে তাশরিক ও ঈদ-উল-আজহা এক সুতোয় গাঁথা। তাকবিরে তাশরিকের ইতিহাস কুরবানির ঈদের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত। মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা ও প্রশংসায় ভরপুর তাকবিরে তাশরিক। কুরবানি বা আত্মত্যাগ হলো মহান আল্লাহর একন্ত আপন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহর একান্ত প্রিয় হওয়ার ইবাদত পালনকালীন সময়েই তাকবিরে তাশরিকের প্রচলন শুরু হয়।

তাকবিরে তাশরিক প্রত্যেত হিজরি সালের জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যনর্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত পড়া ওয়াজিব। আর এ সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত কুরবানি।

তাকবিরে তাশরিকের ৫ দিনের মধ্যে ৩ দিন কুরবানি করা যায়। তাকবিরে তাশরিকের আবশ্যকভাবে পড়া শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে আল্লাহর দুই প্রিয় পয়গাম্বরের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক জড়িত। তাকবিরে তাশরিক যেভাবে শুরু হলো তা জানতে হলে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন। আর তাহলো-

কুরবানির বিধান জারি করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহিম তাকে বলল, হে ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল, হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যধারণকারীর দলভূক্ত পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)

হজরত ইবরাহিম আলাইহি সালাম স্বপ্নে প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে আল্লাহর জন্য কুরবানি করার নির্দেশ পান। আল্লাহর পয়গাম্বর পুত্রকে তার স্বপ্নে বর্ণনা দিলে সন্তান একবাক্যে স্বপ্নে কার্যাদেশ বাস্তবায়নের অভিমত প্রকাশ করেন এবং নিজেকে ধৈর্যধারণকারীদের অন্তর্ভূক্ত পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেন।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই সূচনা হয় এ তাকবিরে তাশরিকের। যা কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামে এ তাকবির প্রত্যেক বছর ৫ দিন পড়া ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়।

তাকবিরে তাশরিকের সূচনা
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন শিশুপুত্র ইসমাইলকে কুরবানির নির্দেশ পালনে জরার করার জন্য মাটিতে শোয়ালেন, তখন আল্লাহ তাআলা হজরত জিবরিল আলাইহিস সালামকে বেহেশত থেকে দুম্বা নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

হজরত ইসমাইলকে জবাই করার আগে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম যাতে দুম্বা নিয়ে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ছুরির নিচে দুম্বা পৌঁছাতে পারেন এবং তাকবিরের আওয়াজ যেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কানে আসে, সে জন্য আকাশে থাকতেই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে থাকেন-
اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر (আল্লাহু আকবার; আল্লাহু আকবার। অর্থ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)

অতঃপর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এ তাকবিরের আওয়াজ শুনে কাপড় দ্বারা আবৃত চোখ খুলে দেখলেন হজরত জিবরিল আলাইহি সালাম আনিত দুম্বা হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে কুরবানি হয়ে যায়। তখন তিনি তাওহিদের কালেমা ও তার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে বলেন-
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ اَللهُ اَكْبَر (লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার। অর্থ : আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আপনিই শ্রেষ্ঠ)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে তাওহিদের কালেমা ও আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে দেখে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসা করে বলেন-
اَللهُ اَكْبَر وَ لِلهِ الْحَمْد (আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। অর্থ : আল্লাহ মহান, সব প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য)

হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের তাকবির, তাওহিদের কালেমার প্রশংসা আল্লাহর কাছে এতই পছন্দনীয় হয়ে যায় যে, হজ পালনকারী, কুরবানি দাতাসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য জিলহজ মাসের ৯-১৩ পর্যন্ত এ ৫ দিন তাকবিরে তাশরিক পড়া আবশ্যক হয়ে যায়।

সুতরাং এ তাকবিরে তাশরিক আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অন্যতম টনিকও বটে। এ তাকবিরে তাশরিকের ভাব-মর্মার্থ ও শিক্ষা নিজেদের মধ্যে লালন করতে পারলেই কুরবানি তথা আত্মত্যাগ সফল হবে।

তাই মুসলিম উম্মাহর সব প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ, মুকিম-মুসাফির, গ্রামবাসী-শহরবাসী এবং জামায়াতে কিংবা একাকি নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির উচিত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা। আত্মত্যাগের শিক্ষা ও তাৎপর্য গ্রহণ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাকবিরে তাশরিকের ইতিহাস জানার পর উল্লেখিত দিনগুলোতে শুকরিয়া হিসেবে এ ওয়াজিব কাজ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করে তার একান্ত নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

বৈঠকের মাঝখানে বসা নিষেধ


২৭৫৩

حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَعَدَ وَسْطَ حَلْقَةٍ فَقَالَ حُذَيْفَةُ مَلْعُونٌ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ أَوْ لَعَنَ اللَّهُ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم – مَنْ قَعَدَ وَسْطَ الْحَلْقَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو مِجْلَزٍ اسْمُهُ لاَحِقُ بْنُ حُمَيْدٍ ‏.‏

আবূ মিজলায (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কোন এক লোক বৈঠকের মাঝখানে বসে পড়লে হুযাইফা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বৈঠকের মাঝখানে বসে, সে মুহাম্মাদের ভাষায় লানত প্রাপ্ত অথবা আল্লাহ মুহাম্মাদের জবানীতে তাকে অভিশাপ দিয়েছেন।

যঈফ, যঈফা (৬৩৮), মিশকাত (৪৭২২), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মিজলাযের নাম লাহিক ইবনু হুমাইদ।

বিনা অনুমতিতে দু’জনের মাঝখানে বসা মাকরূহ


২৭৫২

حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثْنَيْنِ إِلاَّ بِإِذْنِهِمَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ عَامِرٌ الأَحْوَلُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَيْضًا ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ অনুমতি ব্যতীত দু’জন লোককে ফাঁক করে বসা কারো জন্য বৈধ নয়।

হাসান সহীহঃ মিশকাত তাহক্বীক্ব সানী (৭৪০৩)

প্রয়োজনবশতঃ কেউ আসন ছেড়ে উঠে গিয়ে আবার ফিরে এলে সে ব্যক্তিই সে আসনের বেশি হক্বদার


২৭৫১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الرَّجُلُ أَحَقُّ بِمَجْلِسِهِ وَإِنْ خَرَجَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ عَادَ فَهُوَ أَحَقُّ بِمَجْلِسِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏

ওয়াহ্‌হাব ইবনু হুযাইফাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ আসনের বেশি হক্বদার। সে ব্যক্তি কোন প্রয়োজনে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলে এ জায়গার জন্য সেই বেশি হক্বদার।

সহীহঃ ইরওয়াহ্‌ (২/২৫৮)

কাউকে তার আসন থেকে তুলে সেই আসনে বসা মাকরুহ


২৭৪৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ يُقِمْ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ مِنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার কোন ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সেই আসনে না বসে।

সহীহঃ বুখারী (৬২৬৯), মুসলিম (৭/৯-১০)।

২৭৫০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ يُقِمْ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ مِنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ الرَّجُلُ يَقُومُ لاِبْنِ عُمَرَ فَلاَ يَجْلِسُ فِيهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সে সেখানে না বসে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা ইবনু ‘উমারের জন্য জায়গা ছেড়ে দিত কিন্তু তিনি তাতে বসতেন না।

সহীহঃ বুখারী (৬২৭০), মুসলিম (৭/১০)।

নামাযে হাঁচি আসে শাইতানের পক্ষ থেকে


২৭৪৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رَفَعَهُ قَالَ ‏ “‏ الْعُطَاسُ وَالنُّعَاسُ وَالتَّثَاؤُبُ فِي الصَّلاَةِ وَالْحَيْضُ وَالْقَىْءُ وَالرُّعَافُ مِنَ الشَّيْطَانِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ ‏.‏ قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قُلْتُ لَهُ مَا اسْمُ جَدِّ عَدِيٍّ قَالَ لاَ أَدْرِي ‏.‏ وَذُكِرَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ قَالَ اسْمُهُ دِينَارٌ ‏.‏

আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে পালাক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে পালাক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে মারফূ হিসেবে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ নামাযের মধ্যে হাঁচি, তন্দ্রা ও হাই তোলা এবং হায়িয, বমি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া শাইতানের পক্ষ হতে।

যঈফ, মিশকাত (৯৯৯), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র শারীক হতে ইয়াকযান সূত্রে এ হাদিস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-কে ‘আদী ইবনু সাবিত-তার পিতা-তার দাদা’ এই সনদসূত্র প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। আমি বললাম, আদীর দাদার নাম কি? তিনি বললেন, আমি জানি না। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু মাঈন প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে যে, তিনি আদীর দাদার নাম দীনার বলেছেন।

আল্লাহ তা’আলা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন।


২৭৪৬

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الْعُطَاسُ مِنَ اللَّهِ وَالتَّثَاؤُبُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَضَعْ يَدَهُ عَلَى فِيهِ وَإِذَا قَالَ آهْ آهْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَضْحَكُ مِنْ جَوْفِهِ وَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ فَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ آهْ آهْ إِذَا تَثَاءَبَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَضْحَكُ فِي جَوْفِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হাঁচি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে আর হাই শাইতানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাই তুললে সে যেন মুখের উপর হাত রাখে। আর সে যখন আহ আহ বলে, তখন শাইতান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে। আল্লাহ –তা’আলা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্ধ করেন। কাজেই কেউ যখন আহ আহ শব্দে হাই তোলে , তখন শাইতান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে।

হাসান সহীহঃ তা’লীক আলা ইবনে খুযাইমাহ (৯২১ ,৯২২) , ইরওয়াহ (৭৭৯) , বুখারী অনুরুপ।

২৭৪৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَحَقٌّ عَلَى كُلِّ مَنْ سَمِعَهُ أَنْ يَقُولَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ وَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ وَلاَ يَقُولَنَّ هَاهْ هَاهْ فَإِنَّمَا ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ يَضْحَكُ مِنْهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَجْلاَنَ ‏.‏ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ أَحْفَظُ لِحَدِيثِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ وَأَثْبَتُ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ ‏.‏ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْعَطَّارَ الْبَصْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ أَحَادِيثُ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ رَوَى بَعْضَهَا سَعِيدٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَرَوَى بَعْضَهَا سَعِيدٌ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فَاخْتَلَطَتْ عَلَىَّ فَجَعَلْتُهَا عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলার সময় সকল শ্রোতার জন্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা খুবই জরুরী হয়ে যায়। আর তোমাদের মাঝে কারও হাই উঠার সময় যথাসম্ভব সে যেন তা ফিরিয়ে রাখে এবং আহ্‌ আহ্‌ না বলে। কেননা এটা শাইতানের পক্ষ হতে এবং সে তাতে হাসতে থাকে।

সহীহঃ ইরওয়াহ্‌ (৭৭৬), বুখারী।

হাঁচিদাতা আল-হামদু লিল্লাহ বললে তার জবাব দেয়া কর্তব্য


২৭৪২

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، عَطَسَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَمَّتَّ هَذَا وَلَمْ تُشَمِّتْنِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ وَإِنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে দু’জন লোক হাঁচি দিলো। তিনি তাদের একজনের হাঁচির জবাবে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বললেন, কিন্তু অন্যজনের জবাব দিলেন না। তিনি যার হাঁচির জবাব দেননি সে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন কিন্তু আমার হাঁচির জবাব দেননি। রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে তো (আল-হামদু লিল্লাহ বলে) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে, কিন্তু তুমি তো “আল-হামদু লিল্লাহ “ বলনি।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

২৭৪৩

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا شَاهِدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ عَطَسَ الثَّانِيَةَ وَالثَّالِثَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ هَذَا رَجُلٌ مَزْكُومٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

ইয়াস ইবনু সালামাহ (রহঃ) হতে তার বাবা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে হাঁচি দিল। আমিও তখন উপস্থিত ছিলাম। রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইয়ারহামুকাল্লাহ”। সে আরেকবার হাঁচি দিলে রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত।

সহীহ ; ইবনু মা-জাহ (৩৭১৪)

২৭৪৪

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ السَّلُولِيُّ الْكُوفِيُّ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يُشَمَّتُ الْعَاطِسُ ثَلاَثًا فَإِنْ زَادَ فَإِنْ شِئْتَ فَشَمِّتْهُ وَإِنْ شِئْتَ فَلاَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ مَجْهُولٌ ‏.‏

উমার ইবনু ইসহাক ইবনু আবূ তালহা (রহঃ)এর নানা থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনবার পর্যন্ত হাঁচির উত্তর দাও। এরপরও সে যদি হাঁচি দেয় তবে তুমি চাইলে তার উত্তর দিতেও পার নাও দিতে পার।

যঈফ, যঈফা (৪৮৩০), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এর সনদসূত্র অপরিচিত।

 

২৭৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَزِيرٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا عَطَسَ غَطَّى وَجْهَهُ بِيَدِهِ أَوْ بِثَوْبِهِ وَغَضَّ بِهَا صَوْتَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তাঁর হাত কিংবা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর আওয়াজ নীচুঁ করতেন।

হাসান সহীহঃ রাওযুন নাযীর (১১০৯)

হাঁচি দিলে হাঁচিদাতা যা বলবে


২৭৩৮

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَضْرَمِيٌّ، مَوْلَى آلِ الْجَارُودِ عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلاً، عَطَسَ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَلَيْسَ هَكَذَا عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَنَا أَنْ نَقُولَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ زِيَادِ بْنِ الرَّبِيعِ ‏.‏

নাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জনৈক ব্যক্তি ইবনু ‘উমর (রাঃ)এর পাশে হাঁচি দিয়ে বলল, “আলহামদু লিল্লাহি ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ”। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমিও তো বলি, “আলহামদু লিল্লাহ ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ” (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য নিবেদিত এবং তাঁর রাসুলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। কিন্তু রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)আমাদেরকে এ রকম বলতে শিখাননি , বরং তিনি আমাদেরকে “ আলহামদু লিল্লাহ আলা কুল্লি হাল “ (সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা) বলতে শিখিয়েছেন।

হাসানঃ মিশকাত (৪৭৪৪) ইরওয়াহ (৩/২৪৫)।

২৭৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ دَيْلَمَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كَانَ الْيَهُودُ يَتَعَاطَسُونَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَرْجُونَ أَنْ يَقُولَ لَهُمْ يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ ‏.‏ فَيَقُولُ ‏ “‏ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي أَيُّوبَ وَسَالِمِ بْنِ عُبَيْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইয়াহুদীগন রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে হাঁচি দিত এবং আশা করত যে, তিনি তাদের জন্য হাঁচির জবাবে বলবেনঃ ইয়ারহামুকুল্লাহ “। কিন্তু তিনি বলতেনঃ” ইয়াহদীকুমুলাহ ওয়াইউসলিহু বা-লাকুম (আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে হিদায়াত করুন এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করুন)।

সহীহঃ মিশকাত (৪৭৪০)

২৭৪০

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عُبَيْدٍ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ الْقَوْمِ فِي سَفَرٍ فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ ‏.‏ فَقَالَ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمِّكَ فَكَأَنَّ الرَّجُلَ وَجِدَ فِي نَفْسِهِ فَقَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ أَقُلْ إِلاَّ مَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمِّكَ إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلْيَقُلْ لَهُ مَنْ يَرُدُّ عَلَيْهِ يَرْحَمُكَ اللَّهُ وَلْيَقُلْ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ اخْتَلَفُوا فِي رِوَايَتِهِ عَنْ مَنْصُورٍ وَقَدْ أَدْخَلُوا بَيْنَ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ وَسَالِمٍ رَجُلاً ‏.‏

সালিম ইবনু উবাইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একদল লোকের সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলেন। তাদের একজন হাঁচি দিয়ে বলল, আসসালামু আলাইকুম। একথা শুনে সালিম বললেন, আলাইকা ওয়া আলা উম্মিকা (তোমার উপর ও তোমার মায়ের উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক)। এ উত্তরে মনে হল যেন সে অসন্তুষ্ট হয়েছে। সুতরাং তিনি বললেন, এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন, আমি তো তাই বললাম জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে হাঁচি দিয়ে বলেছিল, আসসালামু আলাইকুম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ আলাইকা ওয়া আলা উষ্মিকা। কাজেই তোমাদের কেউ যেন হাঁচি দিয়ে বলে, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আর যে ব্যক্তি তার জবাব দিবে সে যেন বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তা’আলা আপনাকে রহম করুন)। হাঁচিদাতা আবার বলবে, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম (আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে মাফ করুন)।

যঈফ, ইরওয়া (৩/২৪৬, ২৪৭), মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৭৪১), আবূ ঈসা বলেন, মানসূর হতে এ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবীগণ মতের অমিল করেছেন। তারা হিলাল ইবনু ইসাফ ও সালিম (রহঃ)-এর মাঝখানে আরো এক ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন।

২৭৪১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَخِيهِ، عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَلْيَقُلِ الَّذِي يَرُدُّ عَلَيْهِ يَرْحَمُكَ اللَّهُ وَلْيَقُلْ هُوَ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ ‏”‏ ‏.‏

আবু আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কেউ যখন হাঁচি দিবে তখন সে যেন বলে, আল-হামদু লিল্লাহ আলা কুল্লি হাল। উত্তরদাতা বলবে , ইয়ারহামুকাল্লাহ। হাঁচিদাতা আবার বলবে , ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়াইউসলিহু বা-লাকুম।

সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭১৫)

হাঁচিদাতার জবাব দেয়া


حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ بِالْمَعْرُوفِ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَتْبَعُ جَنَازَتَهُ إِذَا مَاتَ وَيُحِبُّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَالْبَرَاءِ وَأَبِي مَسْعُودٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُهُمْ فِي الْحَارِثِ الأَعْوَرِ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক মুসলমানের সাথে অন্য মুসলমানের ছয়টি সদ্ব্যবহারের বিষয় আছেঃ (১) তার সাথে দেখা হলে তাকে সালাম করবে, (২) সে কোন ব্যাপারে আহ্বান করলে তাতে সাড়া দিবে, (৩) সে হাঁচি দিলে উত্তর দিবে (তার আলহামদুলিল্লাহ্‌র উত্তরে বলবে ইয়ারহামুকাল্লাহ), (৪) সে রোগাক্রান্ত হলে তাকে দেখতে যাবে, (৫) সে ইন্তেকাল করলে তার জানাযায় শারীক হবে এবং (৬) নিজের জন্য যা ভালোবাসবে পরের জন্যও তাই ভালোবাসবে।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৩৩), এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা, আবূ আইয়ূব, বরাআ ও আবূ মাসঊদ (রাঃ) হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। অন্য সূত্রেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ হাদিস বর্ণিত আছে। কেউ কেউ আল-হারিস আল-আওয়াবের সমালোচনা করেছেন।

 

২৭৩৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْمَخْزُومِيُّ الْمَدَنِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لِلْمُؤْمِنِ عَلَى الْمُؤْمِنِ سِتُّ خِصَالٍ يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَنْصَحُ لَهُ إِذَا غَابَ أَوْ شَهِدَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَمُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْمَخْزُومِيُّ الْمَدَنِيُّ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ ‏.‏

আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক মু’মিনের জন্য আরেক মু’মিনের উপর ছয়টি দায়িত্ব রয়েছেঃ (১) সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে , (২) মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হবে , (৩) ডাকলে তাতে সাড়া দিবে ,(৪) তার সাথে দেখা হলে তাকে সালাম করবে (৫) সে হাঁচি দিলে তার জবাব দিবে এবং (৬) তার অনুপস্হিতিতে কিংবা উপস্থিতি সকল অবস্হায় তার শুভ কামনা করবে।

সহীহঃ সহীহাহ (৮৩২) , মুসলিম অনুরুপ।

হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন


হাড়ের ব্যাথা বা হাড়ের ক্ষয়রোগে ভুগছে অসংখ্য মানুষ। বর্তমান সময়ে অস্বাভাবিক হারে হাড়ের রোগের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। যার ফলে মানুষ চলাফেরায় চরম সমস্যাগ্রস্ত। হাঁটু কিংবা কোমরে হাড়ের ব্যথা থাকলে মানুষ ঠিকভাবে চলাফেরাসহ ইবাদত-বন্দেগিও করতে পারে না।

অনেক সময় মানুষের হাড়ের এ ব্যাথা বার্ধক্যের কারণে হয়ে থাকে। আবার প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবেও এ সমস্যা হতে পারে। আবার অল্প বয়সী মানুষকেও হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়।

মানুষের বয়স বেশি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ইবাদত-বন্দেগিতেও কষ্ট হয়। কারণ সে সময় হাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় ঠিকভাবে দাঁড়াতে কিংবা বসতে অনেক সমস্যা হয়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় রয়েছে উন্নত মানের চিকিৎসা। তবে অধিকাংশ সময়ই হাড়ের এ রোগের পরিপূর্ণ চিকিৎসা হয় না। তাই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বান্দার কোনো উপায় থাকে না।

হাড়ের ব্যথা, ক্ষয়রোগসহ যাবতীয় সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে রয়েছে বিশেষ একটি দোয়া। যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি এ দোয়াটিও পড়া যেতে পারে।

হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম বার্ধক্যে উপনীত হলে তার হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিলেন। আর তাহলো-
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
উচ্চারণ : ‘(ক্বালা) রাব্বি ইন্নি ওয়াহানাল আজমু মিন্নি ওয়াশতাআলার রাসু শাইবাও ওয়া লাম আকুন বিদুআয়িকা রাব্বি শাকিয়্যা।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৪)
অর্থ : ‘(সে বলল) হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থি বাধ্যকের (বয়স ভারে) কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হয়েছে। হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল হইনি।’

সুতরাং যাদের হাড়ের ক্ষয় রোগ আছে কিংবা ব্যথা আছে, তারা এটি নিয়মিত পড়তে পারেন। বিশেষ করে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এ দোয়া পড়ার জন্য উপযুক্ত সময়। একনিষ্ঠ নিয়তে নিয়মিত এ দোয়া পড়লে মানুষ হাড়ের ক্ষয়রোগসহ ব্যথা বেদনায় স্বস্তি লাভ করবে।

উল্লেখ্য যে, হাড়ের কোনো সমস্যা হলে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয়ে সে মতে চলা জরুরি। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে হাড়ের সমস্যা সমাধানে উল্লেখিত দোয়া মাধ্যমে শেফা লাভের প্রার্থনা করে যাওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাড়ের যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি দান করুন। এ দোয়া বরকতে হাড়ের যাবতীয় রোগ-বালাই থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে ভারতীয় আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া


অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা ও মসজিদের জায়গার বিরোধ নিয়ে মামলা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচার প্রক্রিয়াধীন ছিল। গত শনিবার দেশটির শীর্ষ আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

গত শনিবার গোটা বিশ্বের দৃষ্টি ছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দিকে। সব কল্পনা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাম মন্দিরের পক্ষেই মামলার রায় দেন। রায়ের নির্দেশ অনুযায়ী বাবরি মসজিদের ওই ২.৭৭ একর জমির উপর তৈরি হবে রাম মন্দির। অন্যদিকে অযোধ্যাতেই মসজিদ তৈরির জন্য অন্য কোথাও ৫ একর জমি মুসলিম সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে দেয়া নির্দেশ দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে হেরে গেছে মুসলিমরা। এ রায়ে ভারতের আলেমদের মধ্যেও মত পার্থক্য এবং পক্ষ-বিপক্ষ বিরোধ শুরু হয়েছে। এ রায় নিয়ে কী ভাবছেন দেশটির প্রসিদ্ধ আলেমরা।

মাওলানা আরশাদ মাদানি

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রবীণ মুহাদ্দিস ও ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (একাংশের) আমির মাওলানা আরশাদ মাদাদি রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করেছি, করবো। আমাদের বিশ্বাস ছিলো আমাদের পক্ষ্যে বাবরি মসজিদ মামলার রায় আসবে। কারণ আমরা মজুবত দলিল প্রমাণ পেশ করেছি।

রায়ের পর তিনি ভারতের মুসলিমদের প্রতি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও মুসলিমদের নিরাপত্তার বিষয়কে প্রাধান্য দিতে এ রায়কে পরাজয় কিংবা বিজয় হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান।

মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ালি রাহমানি

ভারতের বিহার ওড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ডের ইসলামি শরীয়াহ বোর্ডের প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ালি রাহমানি আদালতের রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বেদনাদায়ক তবে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা স্বীকার করা দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশ সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করে। যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং দেশের সর্বাধিক সম্মানিত ও সর্বোচ্চ আদালত এটি, তাই আমরা আদালতের এ সিদ্ধান্তটি মেনে নিচ্ছি। তবে সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ে আমরা অত্যান্ত মর্মাহত এবং দুঃখিত।

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ওয়ালি রাহমানি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিবেদনের আলোকেই রায় তৈরি করেছে। অথচ প্রত্নতাত্ত্বিকরাও বিশ্বাস করেন যে, তাদের প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্টটি অনুমানের ভিত্তিতে করা হয়েছে। সুতরাং এ মামলার রায়ও অনুমানের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আমরা এর সুরাহা চাই।

মাওলানা গুলজার আহমদ আজমি

ভারতের জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের আইনি সহায়তা কমিটির প্রধান মাওলানা গুলজার আহমদ আজমি সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর মুম্বইয়ে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অনেক কিছুই আমরা অপছন্দ হলেও মেনে নেই। বাবরি মসজিদ রায়ও আমাদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও মেনে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তবে বাবরি মসজিদের জায়গার পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য পাঁচ একর জমি ভিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন নেই। মুসলমানরা যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দলিলের আলোকেই আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেছিল। যা পূরণ করতে পারেনি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি, তবে সিদ্ধান্তের মধ্যে অনেকগুলি ত্রুটি ছিল। যেগুলো নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। সুতরাং কুরআনের আদেশের দিকেই আমাদের নজর দেয়া উচিত। আল্লাহ বলেন-

‘যা তুসি অপছন্দ কর বা ঘৃণা কর, হয়ত তাতে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য মঙ্গল রেখেছেন।’

মাওলানা সালমান নদভি

ভারতের লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক মাওলানা সালমান নদভি মামলার রায় সম্পর্কে বলেন, ‘আমি এমন একটি রায়ের জন্যই চেষ্টা করে আসছি একবছর আগ থেকে। জনাব রবি শঙ্করের সঙ্গে মিলে আমি দেশকে মুসলিম-হিন্দু সংঘাত থেকে বাঁচাতে এমন একটি রায়ের চেষ্টা করছিলাম।

আর তাই এ মামলার জন্য উভয় পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা কমিটি করা হয়েছিলো। তাতে আমি ছিলাম। চেষ্টা করেছি এমন একটি ফায়সালার জন্য যেনো ভারতে বাবরি মসজিদ নিয়ে বহু বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার অবসান হয়।

তিনি এ রায়ে আল্লাহ প্রশংসা করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ঐতিহাসিক এ রায় হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ের একটি মসজিদ স্থানান্তরের ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। যেখানে বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার কথা চিন্তা করে মসজিদ স্থানান্তর করে খেজুর বাজার নির্মাণ করা হয়েছিল।

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র ও সেক্রেটারি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি রায়ের পর বলেন, বাবরি মসজিদ ইস্যুতে কোর্টের ফায়সালা মেনে নিবো। কিন্তু আমাদের প্রতি ন্যায় বিচার হয়নি এটাও আমরা বলছি।

তিনি বলেন, মামলাটি শুরু হয়েছিল নিপীড়ন এবং প্রতারণার মাধ্যমে। আজ আবারও সে প্রতারণায় আমাদের থেকে মসজিদের অধিকার ছিনিয়ে নিলো আদালত। এরপরও বলবো আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশী।

মাওলানা সৈয়দ আহমেদ বুখারি

দিল্লি শাহী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সৈয়দ আহমেদ বুখারি রায় প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ভারতের মুসলমানরা শান্তি চায়। এরই মধ্যে তারা বলেছে সর্বোচ্চ আদালতের যে রায় হবে তা মেনে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রায় মেনে নিয়েছি। বিষয়টি হিন্দু-মুসলিমদের দীর্ঘদিনের বিরোধ। এ বিরোধের অবসান হওয়া উচিত।’

এ রায়ের রিভিউ পিটিশনের ব্যাপারেও তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত করা উচিত হবে না।

সর্বোপরি ভারতের শীর্ষ আলেমদের বক্তব্য থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, বাবরি মসজিদ মামলার রায় সঠিক হোক আর না হোক হিন্দু-মুসলিম বিরোধ নিষ্পত্তির স্বার্থে এ রায় মেনে নেয়ায় রয়েছে কল্যাণ ও শান্তি।

আলেমদের এসব বিবৃতিতে আবারও প্রমাণিত হলো ইসলাম ও মুসলিমরাই সাম্য ও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠায় অনন্য। এ রায় মেনে নেয়ার মধ্যেই রয়েছে মুসলমানদের সুস্পষ্ট বিজয়।